চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক আলোচনা সভায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার বাবার চেয়েও আপনার অবস্থা খারাপ হবে। আপনার বাবার মৃত্যুর পর যেমন ইন্নালিল্লাহ্ পড়ার লোক ছিল না, আপনার পরিণতি তার চেয়েও খারাপ হবে। আপনাকে বাবার চেয়েও নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হবে।
এই বক্তব্য সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধে ২০১৫ সালে চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর হয়। এরপরই সাকার ছোট ছেলে হম্মাম নানাবিধ কটুক্তি করে সরকারের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে।
ফাঁসির পুর্বে সাকা চৌধুরীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং বিবিধ কুরচিপূর্ণ কথাবার্তা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলো। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকেও প্রশ্নবিদ্ধ করতে তার কুপ্রয়াস চালিয়ে গেছেন ফাঁসিতে ঝোলার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে সাকা চৌধুরী বলেছিলো, আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। অনেক আইন আমি করেছি। আপনি তো আমার করা এ আইন পড়েও দেখেননি। বিভিন্ন সময়ে প্রসিকিউটরদের হেয় করে ‘পার্সিকিউটর’ বলে তিনি সরকারী আইনজীবীদের হেয় করার চেষ্টা করতেন।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাকা চৌধুরীসহ কুখ্যাত রাজাকারদের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি তাদের বংশধরেরা সরকারের বিরুদ্ধে নানা কটুক্তি করে বেড়াচ্ছে। এবং এরা প্রকাশ্যে আস্ফালন করে সরাসরি সরকারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে যাচ্ছে। দিনকে দিন তাদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ বেড়ে যাচ্ছে। তারা এখনও সরকার উৎখাতের অবৈধ পথের সন্ধান করছে। পেছনের দরোজা দিয়ে ক্ষমতায় এসে তাদের প্রতিশোধ চরিতার্থ করতে চায়। তাদের বক্তব্যে এই ধরনের আস্ফালন বেড়েই চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় সাকা চৌধুরীরর ভাই চট্টগ্রামে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন আক্রমণ করে হত্যার হুমকি দেন।
প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মামলা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন এ মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি চট্টগ্রাম মহানগর দায়েরা জজ কোর্টে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। মামলার বাদী নুরুল আজিম রনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীর সন্তান ও ভাই গিয়াস কাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তা শেখ হাসিনার জন্য নিবেদিতপ্রাণ লাখ লাখ নেতাকর্মীর জন্য চপেটাঘাত। আমরা চাই, গিয়াস উদ্দিন কাদেরকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হোক। এই কালসাপগুলো এখন উদ্যত ফণা তুলছে। ছোবল দিতে চায়।
আমরা মনে করি এই ধরণের অপরাধীদের দ্রুত বিচারের অাওতায় এনে দেশ ও জাতিকে উদ্বেগ ও শঙ্কামুক্ত করা জরুরি। নতুবা এই যুদ্ধাপরাধীদের বংশধররা প্রতিদিন বিষ বৃক্ষ বপন করে দেশব্যাপী স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর দুঃসাহস দেখিয়ে যাবে।










