চার মাস আগেও তাদের সহজে হারানো গেছে। কিন্তু পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। একটি বিশেষ সংযোজনের জন্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এখন প্রতিপক্ষের কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের কাছে কয়েকমাস আগেও ওয়ানডেতে যারা ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে, তারাই সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচে এমন পারফর্ম করবে সেটা খুব বেশি লোক অনুমান করেছিল কী?
না করলেও কিন্তু বাংলাদেশ ঠিকই নিজেদের রেকর্ড সংগ্রহ গড়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ২১ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে। এই জয় কেন উইলিয়ামসনের দলকে এটা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তারা যা দেখেছিল তার তুলনায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে অনেকবেশি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে পাবে।
অনুপ্রেরণামূলক অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান নিউজিল্যান্ড সফর মিস করেছিলেন। তিনিই দলে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতা ম্যাচে ব্যাট হাতে ৭৫ রানের ইনিংসও খেলেছেন। বল হাতে উইকেট পেয়েছেন।
সবশেষ নিউজিল্যান্ড সফরের চেয়ে বিদেশের মাটিতে এখন অনেকবেশি সফল দল বাংলাদেশ। তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে ইংল্যান্ডের সাফল্য। ২০১৭ সালে যেখানে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ কী করতে পারে সে সম্পর্কে নিউজিল্যান্ড বোলিং কোচ শেন জার্গেনসেনের চেয়ে বেশি হয়তো কেউই জানেন না! কারণ, ২০১৩ সালে টাইগারদের কাছে কিউইদের ৩-০তে হোয়াইটওয়াশ হওয়া সিরিজে তামিম-সাকিবদের কোচ ছিলেন তিনিই। তাই সাবেক শিষ্যদের কাছ থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আসার পর তা নিয়ে অবাক হননি এবং নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের খাবি খাওয়ার বিষয়টিও তার মনে থাকছে না আর।
সাউথ আফ্রিকা ম্যাচের পর এবং নিউজিল্যান্ড ম্যাচ সামনে রেখে জার্গেনসেন বলেছেন, ‘আমরা তাদের একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দল হিসাবেই পেতে যাচ্ছি। নিউজিল্যান্ডে কী ঘটেছিল, সেই সিরিজের ফলাফলই বা কী, সেসব এখন বহুদিনের অতীত। এটা বিশ্বকাপ, তারা প্রতিটি ম্যাচের জন্যই সেট হচ্ছে। সুতরাং আমরা আমাদের পা মেপেই এগোব।’
বাংলাদেশের ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে সাবেক কোচ বলেছেন, ‘আমরা জানি, বোলিংয়ের ক্ষেত্রে তারা কতটা চাপ তৈরি করতে পারে। আর ব্যাটিংয়ে আসলেই তাদের বিপজ্জনক খেলোয়াড় আছে। তাদের এমন খেলোয়াড় আছে, যারা সামনে এসে ম্যাচ বের করে নিতে পারেন। তাদের ব্যাটসম্যানরা লম্বা সময় ধরে ব্যাট করতে পারে এবং ব্যাটিংয়ের সময় তারা বেশ কুশলীও। নির্বিশেষে সাকিব আল হাসান যেকোনো পিচে উইকেট নিতে সক্ষম। তাদের বোলাররা সামান্য কাটারের সঙ্গে বলে গতি পরিবর্তন করতে পারেন। ফলে আমরা জানি, আমরা সত্যিই সত্যিই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য অবশ্য প্রস্তুত হচ্ছে নিউজিল্যান্ডও। তারা অনুশীলনে বেশি ব্যবহার করছে স্পিনার আজজ প্যাটেলকে। সারেতে খেলা বাঁহাতি এই স্পিনারকে নেটে নেয়া হয়েছে, যাতে করে ম্যাচে সাকিব আল হাসানকে খেলতে সুবিধে হয়।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডে সাংবাদিক নায়াল অ্যান্ডারসনের লেখা অবলম্বনে







