সাভারের আমিনবাজারে বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায় পুর্নবিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
২০১২ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগের দেওয়া রায় পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে মধুমতি মডেল টাউন কর্তৃপক্ষের করা আবেদন বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।
এ রায়ের পর বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, ‘আজকের এ রায়ের ফলে মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প চূড়ান্তভাবে অবৈধ হয়ে গেল। আর অনিয়ন্ত্রিত আবাসন শিল্পকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভূমিদস্যুতারোধে সর্বোচ্চ আদালতের এই চূড়ান্ত রায় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এবং এ রায় জলাশয় ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে প্রথম শাস্তি।’
২০১২ সালের ৭ আগস্ট মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ে ‘ওই প্রকল্পের ভূমি ছয় মাসের মধ্যে পূর্বের অবস্থায় (জলাশয়) ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং এই সময়ের মধ্যে ভূমি নিবন্ধনের খরচসহ ক্রেতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের দ্বিগুণ ফেরত দিতে বলা হয়।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সহ পৃথক পাঁচটি আপিল ও আবেদনের ওপর শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ওই রায় ঘোষণা করেন।
রাজউকের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই মেট্রো মেকার্স ডেভেলপারস লিমিটেড বন্যা প্রবাহিত এলাকায় মধুমতি মডেল টাউন হাউজিং প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বেলা। এতে ভূমি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়, রাজউক ও মেট্রো মেকার্সকে বিবাদী করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট।
আর রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে প্লট গ্রহীতাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া ওই প্রকল্পে মাটি ভরাট বন্ধ করার বিষয়ে রাজউকের মেট্রো মেকার্সকে দেওয়া নোটিশ চ্যালেঞ্জ করে অপর রিট আবেদনটি করে মেট্রো মেকার্স। এই আবেদনও খারিজ হয়।
এরপর পক্ষগুলোর পৃথক চারটি আপিল ও রাজউক একটি আবেদন করে। সে সব আপিল ও আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এরপর আপিল বিভাগের এ রায় পুর্নবিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে মধুমতি মডেল টাউন কর্তৃপক্ষ।
সে রিভিউ আবেদন আজ খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।







