যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম মিউজিয়ামে গত বছর থেকে সযত্নে সংরক্ষিত হচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম হাতে লেখা কোরআনের অংশবিশেষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই হস্ত-লিখন কোরআন লিখিত হয় হযরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশাতেই। কোরআনটির সন্ধান পাওয়ার পর, ইসলামী জাগরণের আরেক জীবন্ত তথ্য হাতে পেয়েছেন গবেষক ও চিন্তাবিদরা।
বার্মিংহাম মিউজিয়াম অ্যান্ড আর্ট গ্যালারি বিশ্বমুসলিমদের কাছে এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই মিউজিয়ামের ক্যাডব্যারি রিসার্চ লাইব্রেরির ইসলামিক আর্টস বিভাগে শোভা পাচ্ছে পৃথিবীর প্রাচীনতম এই কোরআন শরীফ। ১৯২৪ সালে নিলামে কেনা প্রাচীন দলিল দস্তাবেজ আর উপহার সামগ্রির মধ্যে অনেকটা ফেলনা জিনিসের মতো পড়েছিল মুসলমানদের এই অমূল্যধন।
গত বছর জুলাইতে মিউজিয়ামের সংস্কার কাজের সময় দায়িত্বশীলদের চোখে পড়ে হাতে লেখা পবিত্র কোরআনের অংশবিশেষ। তারপর গবেষকদের কাছে পৌঁছতেই হৈ চৈ পড়ে যায় বিশ্বব্যাপী।
দূর দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই মানুষ ছুটে আসেন হাতে লেখা কোরআনের এই অংশকে এক নজর দেখার জন্য। এক পর্যটক জানালেন তিনিও জানতে পেরেই ছুটে এসেছেন এই কোরআনটি এক পলক দেখার জন্য।
চামড়া বা পার্চমেন্ট পেপার কালের বিবর্তনে লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। নোকতা ও জবর-জের-পেশহীন এই লেখনী আরবীর প্রাচীন রূপ। রেডিও কার্বন পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে কাগজটির জন্মকাল ৫’শ ৬৮ থেকে ৬’শ ৪৫ এর মধ্যে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, গবেষণায় উঠে আসা বিষয়ের যথেষ্টই বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ইসলামি চিন্তাবিদ ড. শাবির আলী বলেন, গবেষকদের ধারণা ও ইসলামের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে এটা যে পৃথিবীর প্রাচীনতম কোরআনের অংশবিশেষ তা ৯৫ ভাগ মিলে যায়। বিশেষ করে কাগজটি ও লেখনীর সময় ৬৪৫ সালের মধ্যে অর্থাৎ খলিফা হযরত ওসমানীর সময়কালের সঙ্গে মেলে। যার একযুগ আগেও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত ছিলেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, হস্তলিপিটি প্রাচীন আরবি বর্ণমালায় লেখা, যা ওই সময়কে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে।
গবেষকরা ধারণা করেন, প্রথম ওহী লেখক ছয়জনের একজন হয়তো লিখেছেন এই কোরআন। যার সঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহও আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সখ্য ছিল।








