যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে দেশটির ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে তীব্র বিভাজন দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদসহ সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সদস্য প্রকাশ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। তবে মন্ত্রিসভার বড় অংশ এখনও স্টারমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত লেবার পার্টির অন্তত ৭২ জন সংসদ সদস্য স্টারমারের পদত্যাগ অথবা সরে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে দলটির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইতোমধ্যে ছয়জন পার্লামেন্টারি প্রাইভেট সেক্রেটারি বা মন্ত্রীর সহকারী পদত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রায়নারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেলানি ওয়ার্ড, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েজ স্ট্রিটিংয়ের সহকারী জো মরিস, সংসদ সদস্য নওশাবাহ খান ও টম রাটল্যান্ড।
পদত্যাগ করার পর সহকারী জো মরিস বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্থানীয় নির্বাচনে লেবার প্রার্থীদের এমন সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়েছে, যার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল না।
ইস্ট ওর্থিং অ্যান্ড শোরহ্যামের এমপি টম রাটল্যান্ডের মতে, স্টারমার শুধু পার্লামেন্টারি লেবার পার্টির মধ্যেই নয়, সারা দেশেই তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন।
অন্যদিকে গিলিংহ্যাম অ্যান্ড রেইনহামের এমপি নওশাবাহ খান বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে এখন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। ব্যর্থতা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি রাজনীতিতে আসেননি।
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সহকারী স্যালি জেমসনও স্টারমারের বিদায়ের সময়সূচি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, সেপ্টেম্বর অথবা তার কিছু সময় পর প্রধানমন্ত্রীর সরে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা উচিত।
তবে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যেও পদত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। সোমবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করবেন তিনি। একই সঙ্গে সরকার কিছু ভুল করেছে স্বীকার করলেও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে সঠিক বলে দাবি করেন।
সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের ভরাডুবির পর থেকেই স্টারমারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ইংল্যান্ডজুড়ে প্রায় দেড় হাজার কাউন্সিলর হারিয়েছে দলটি। পাশাপাশি রিফর্ম ইউকের উত্থান ও গ্রিন পার্টির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি লেবারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
এছাড়া, ওয়েলসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আধিপত্য হারিয়েছে লেবার। অন্যদিকে স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে মাত্র ১৭টি আসন পেয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে দলটি।








