কয়েক বছর ধরেই আলোচনা ছিল, গ্রেনেড হামলায় নিহত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচন করবেন। কিন্তু সেই আলোচনা তীব্র আকার ধারণ করে, যখন জানা গেল, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন তিনি।
সেখানেই থেমে থাকেননি রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে নির্বাচন করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নও কিনেন।
তার এই সিদ্ধান্তে যেমন বাহবা কুড়িয়েছেন, তেমনি নিন্দা আর সমালোচনায় পড়তে হয়েছে তাকে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পক্ষে-বিপক্ষে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সমালোচকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের সাবেক একজন অর্থমন্ত্রী হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন কিভাবে?
আরিফ জেবতিক নামে এক ব্যক্তি ‘রেজা কিবরিয়ার গালি ও বেদনা’ শিরোনামে তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যার পর কিবরিয়া সাহেবের স্ত্রী আসমা কিবরিয়া এবং তাদের পরিবার ‘শান্তির জন্য নীলিমা’ নামে এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। তারা প্রতি সপ্তাহে নীল কাপড় পরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে থেকে শান্তি চাইতেন দেশে আর কিবরিয়া সাহেবের হত্যার বিচার চাইতেন। দিন গেছে, মাস গেছে, বছর গেছে- বিএনপি সরকার গেছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার গেছে তারপর এসেছে কিবরিয়া সাহেবের নিজের দল আওয়ামী লীগ।
‘রেজা কিবরিয়াকে গালি দিবেন না প্লিজ। তাকে গালি দেয়ার যোগ্যতা আপনার আমার নেই। যদি এমপি হওয়ার লোভ থাকত, তাহলে রেজা কিবরিয়ার জন্য সহজ পথ ছিল। নমিনেশন চাইলে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়া তার জন্য কঠিন ছিল না, রেজা কিবরিয়া শিক্ষাদীক্ষা ও অন্যান্য যোগ্যতায় এই আসনের সবচাইতে আকর্ষণীয় প্রার্থী, সিম্প্যাথি ভোট তার ভালোই আছে, হবিগঞ্জের এই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাটি- সব মিলিয়ে নৌকা মার্কার ইলেকশন করলে তার জন্য এমপি হওয়ার পথ সহজ হতো। ধানের শীষ নিয়ে এই আসনে তার নির্বাচন অনেক কঠিন হবে।
কিন্তু রেজা কিবরিয়া কি আসলে এমপি হওয়ার জন্যই এই নির্বাচন করছেন? নাকি পিতার হত্যার বিচার না পেতে পেতে ক্ষুব্ধ সন্তানের এ এক প্রতিবাদ মাত্র?
কিবরিয়া মারা যাওয়ার পর ৫০৪৩ দিন ১৩ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৭ সেকেন্ড চলে গেছে। কী পল অনুপল দণ্ডে দণ্ডে এই হিসাব রাখা, কী অপার অপেক্ষা একটি খুনের বিচারের…।
রেজা কিবরিয়াকে গালি দেয়ার যোগ্যতা তো আপনার নেইই, হয়তো তার বেদনা- ক্ষোভ অনুভবের ক্ষমতাও আপনার নেই…।
বিপরীতপক্ষে ড. রেজা কিবরিয়ার এ কাজের সমালোচনা করে মুকিদুল ইসলাম নামে আরেকজন লিখেছেন, রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করবেন এতে আমরা হবিগঞ্জবাসী খুশি। কারণ আমরা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করব কিবরিয়া ছিলেন আমাদের আওয়ামী লীগের মানে নৌকার লোক।
আর যারা আমাদের কিবরিয়া সাহেবের খুনিদের সাথে হাত মিলিয়ে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবে তাকে আমরা নৌকায় ভোট দিয়ে বুঝিয়ে দিব রেজা কিবরিয়া নয় আমরা আওয়ামী লীগ ঐ কিবরিয়া সাহেবের আপন জন। আসুন আমরা হবিগঞ্জবাসী আওয়াজ তুলি…..
আওয়ামী লীগে না গিয়ে আওয়ামী লীগবিরোধি জোটের হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহের বিষয়ে এ আলোচনা-সমালোচনার মাঝেই সিলেটভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেটটুডে-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজা কিবরিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ বিগত ১০ বছর ধরে যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার আদর্শের সঙ্গে মিল নেই।
‘আমার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা যে আদর্শ লালন করতেন, আওয়ামী লীগ এখন সেই জায়গায় নেই।’
রেজা কিবরিয়া জানান, তার বাবাকে ২০০৫ সালে হত্যার পর বিএনপির সরকারের সময় এবং পরবর্তীকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিচার করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের ১০ বছরেও এ মামলার কোনো সুষ্ঠু তদন্ত বা বিচার করার কোনো উদ্যোগ নেয়নি দলটি।
রেজা কিবরিয়া আরও বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল হবিগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচন করার। আমি সেই স্বপ্ন এবার বাস্তবায়ন করতে চাই। কারণ, এলাকাটি অবহেলিত একটি জনপদ। এলাকার মানুষের জীবনমানে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। এখানের মানুষ চায় না রুগ্ন কোনো চেহারা বারবার আসুক।
গুঞ্জন শোনা যায়, ড. রেজা কিবরিয়া ২০০৮ ও ২০১৪ সালের লবিং করেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ধানের শীষ হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য।
তবে রেজা কিবরিয়া জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিলে শতভাগ নিশ্চিত তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। এসময় হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করছেন তিনি।







