ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি ‘লুস’ নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪ কোটি ডলারে। নতুন গাড়ির নিলামে এটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। গাড়িটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং নিলাম থেকে পাওয়া পুরো অর্থ ফেরারি ফাউন্ডেশনের শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে দান করা হবে।
রোববার (১৭ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় আরএম সোথবির নিলামে বিক্রি হওয়া ফেরারি লুসের দাম ছিল গাড়িটির স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে ৩৫ গুণেরও বেশি। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এটি ছিল গাড়িটির ‘প্রথম উৎপাদিত চ্যাসিস’। এতে ছিল বিশেষ ফিনিশিং ও বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
তবে গাড়িটির ক্রেতার পরিচয় প্রকাশ করেনি সোথবিজ।
আইফোনের নকশার সঙ্গে যুক্ত স্যার জনি আইভের ডিজাইন করা এই গাড়িটি গত মে মাসে উন্মোচনের পর থেকেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ফেরারির ঐতিহ্যবাহী নকশা থেকে সরে এসে গাড়িটিতে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি এবং পাঁচ আসনের ব্যবস্থা রাখায় সমালোচনাও হয়।
সমালোচকদের অনেকে মনে করেন, বৈদ্যুতিক ও পাঁচ আসনের গাড়ি তৈরির মাধ্যমে ফেরারি তার প্রচলিত স্পোর্টসকার পরিচয় থেকে কিছুটা সরে গেছে। এমনকি গাড়িটি উন্মোচনের পরদিনই ফেরারির শেয়ারের দাম কমে যায়।
তবে ফেরারি বলছে, লুস তাদের জন্য নতুন যুগের সূচনা। ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে টেসলা ও চীনা গাড়ি নির্মাতাদের আধিপত্যের মধ্যে এটিই বিলাসবহুল ইতালীয় ব্র্যান্ডটির প্রথম পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি।
গাড়িটি উন্মোচন ঘিরে আগ্রহের কমতি ছিল না। এটি দেখতে ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা ও পোপ লিওকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি এবং ফেরারির সাবেক চেয়ারম্যান লুকা কর্দেরো দি মন্তেজেমোলো গাড়িটির সমালোচনা করেন।
ফেরারির সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, গাড়িটি একটি কিংবদন্তিকে ধ্বংসের ঝুঁকিতে ফেলছে।
তবে ফেরারির প্রধান ডিজাইনার ফ্লাভিও মানজোনি সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখছেন। গত মে মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, উদ্ভাবনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সমালোচনা আসে। তার বিশ্বাস, সময়ের সঙ্গে মানুষ লুসকে পছন্দ করতে শুরু করবে।
বিশেষভাবে নিলামের জন্য তৈরি গাড়িটিতে রয়েছে বিশেষ নকশার চাকা, কাস্টমাইজড ব্রেক এবং সাদা রঙের বিশেষ প্রলেপ।
সোথবিজ জানিয়েছে, গাড়ির নিলামে ফেরারি প্রায়ই সর্বোচ্চ দাম পায়। তাদের মতে, এই নিলাম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্ভাবন, দায়িত্বশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রকাশ।
এর আগে ২০২৫ সালে বিশেষভাবে তৈরি একটি ফেরারি ডেটোনা এসপি৩ নিলামে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ফেরারি ফাউন্ডেশনের শিক্ষা উদ্যোগের জন্য অর্থ সংগ্রহে আয়োজিত ওই নিলামে নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড তৈরি হয়েছিল।
তবে সব ধরনের গাড়ির নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড এখনো অনেক দূরে। ২০২২ সালে অত্যন্ত বিরল ১৯৫৫ সালের মার্সিডিজ-বেঞ্জ ৩০০ এসএলআর উহলেনহট কুপে ১৪ কোটি ২০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়। সেটিই নিলামে বিক্রি হওয়া গাড়ির সর্বোচ্চ দামের বর্তমান রেকর্ড।










