যে সমাজ গঠনের জন্য নূরজাহান বেগম সারাজীবন কাজ করে গেছেন, মৃত্যুর সময় তার উল্টোপিঠে যাত্রাই কি তিনি দেখে গেলেন? নূরজাহান বেগমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনলাইনে এরকম প্রশ্নও করেছেন অনেকে।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে ছিল তার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন যেমন এই মহীয়সী নারীর একটি ছবি দিয়ে ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন: নূরজাহান বেগম। গতবছর ৯০তম জন্মদিনে তোলা ছবি। আপনার জীবন উদযাপন করি।
সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষক হাসান মামুন তাকে স্মরণ করেছেন এভাবে: তাকে কিংবা ‘বেগম’ লেটারিং কোথাও দেখলে মনে পড়ে যেত তার অনন্যসাধারণ পিতা মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন সাহেবের কথা। এদের নাম নিতে গেলেও এখন শিউরে উঠি যে, কেমন মানুষ তারা ছিলেন আর সমাজ ও মানুষকে ভালোবেসে তাকে আলোকিত করতে কী সংগ্রামটাই না ওরা করে গেছেন।
‘পরিতাপের বিষয়, নূরজাহান বেগম তার শেষ জীবনে বোধকরি একটা বিপরীত দিকে ধাবমান জাতিকেই দেখে গেলেন। কেউ কি জানেন এ সময় নিয়ে তার মূল্যায়নের কথা? কে জানে! আমরা তো একই সঙ্গে হয়ে পড়েছি একটি আত্মপর ও উদাসীন জনগোষ্ঠী,’ নূরজাহান বেগমের জন্য শ্রদ্ধার্ঘ্যের পাশাপাশি এভাবে হতাশাও জানিয়েছেন হাসান মামুন।
ঢাকা বাংলা চ্যানেলের হেড অফ নিউজ প্রণব সাহা ‘শ্রদ্ধা সতত’ জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, আরেক কিংবদন্তির সমাপ্তি। চলে গেলেন নূরজাহান বেগম।
একইরকম পোস্টে সময় টেলিভিশনের বার্তা প্রধান তুষার আব্দুল্লাহ বলেন, বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান বেগম। অাপনার নতুন গন্তব্যও সুন্দর এবং প্রশান্তির হোক। স্যাল্যুট।
এফবিসিসিআই’র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাইজেলেশন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং ফটোগ্রাফার আক্কাস মাহমুদ নূরজাহান বেগমকে বাংলাদেশের নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তাকে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
সাবেক ছাত্রনেতা লীনা পারভিন প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বলেছেন, আমার পত্রিকা পড়ার হাতেখড়ি উনাকে (নূরজাহান বেগমকে) কেন্দ্র করে। আজকের যুগে নুরজাহান বেগমের মত মানুষদের বার বার প্রয়োজন, বড় বেশী প্রয়োজন।
‘তিনি এসেছিলেন বলেই আমার মা একজন গৃহিনী হয়েও পেয়েছিলেন নিজের ভাবনার জগতকে প্রসারিত করার সুযোগ। আর নিজের উদ্দীপনা থেকে শত প্রতিকূলতার মাঝেও আমাদেরকে ভাবতে শিখার চোখ খুলতে পেরেছিলেন, উল্লেখ করে লীনা পারভিন লিখেছেন: শত কোটি প্রণাম হে গুনী। তুমি ফিরে আসো বার বার নারী জাগরণের দূত হয়ে।
লেখক অদিতি ফাল্গুনী গায়েন ইংরেজিতে তার পোস্টে বলেছেন: একটি কালের অবসান। যখন পূর্ব বাংলার অনেক মুসলিম পরিবারে নারীর লেখাপড়াই নিষিদ্ধ ছিল তখন তিনি একটি পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার দুঃসাহস দেখিয়েছেন।
নূরজাহান বেগমকে মা হিসেবে উল্লেখ করে অদিতি বর্তমান প্রজন্মের নারীদের পক্ষ থেকে তার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ফেসবুকে রাশেদা খান লিখেছেন: আম্মা/খালাম্মা/চাচীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিলো বেগম। সব বাসায় রাখতো কিনা মনে পড়ে না, তবে এক বাসা হতে আরেক বাসা ঘুরে বেড়াতো পত্রিকাটি। বেগমের একটা ধারাবাহিক গল্প না পড়লে আমার জান বের হয়ে যেতো।
বাংলাদেশের নারীদের জন্য দীর্ঘতম সময় ধরে প্রকাশিত পত্রিকাটির কথা উল্লেখ করে এর সম্পাদক নূরজাহান বেগমের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ভালো থাকুন….









