“যারা এর আগে প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়েছে, এখন কৌশল পাল্টে গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে তারা। আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট। আমার কাছে তথ্য আছে বলেই নিশ্চয়ই আমি কথাগুলো বলেছি। সব তথ্য সবসময় প্রকাশ করা যায় না। কিন্তু তথ্যের ভিত্তিতেই কথাগুলো বলা হয়।”
বুধবার দুপুরে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সৌদি আরব, জাপান ও বুলগেরিয়া সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এ কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি কারা এর আগে বলত, বৃষ্টির মতো গুলি কর। মরলে শহীদ, বাঁচলে গাজী। এরাই হত্যাগুলো ঘটাচ্ছে।
জনমনে ভীতি তৈরির জন্যই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানো হচ্ছে, তবে সরকার বসে নেই বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া যারা চায়নি তারাই হত্যাকাণ্ড করছে। আর এতে ‘সফট টার্গেট’ হচ্ছে মানুষ।
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামে সন্ত্রাসের স্থান নেই। শেষ বিচার আল্লাহ করবেন। যারা ধর্মের নামে হত্যা চালায় তারা আসলে ধর্মে বিশ্বাস করে না। এভাবে মানুষকে হত্যা করে ইসলামকে কলুষিত করা হচ্ছে। কিছু ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর জন্য মুসলিম উম্মাহ হেয় হচ্ছে।
পরিবারের কেউ ওই পথে যাচ্ছে কিনা এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যদের সচেতন হতে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সন্ত্রাসীরা মানুষ পোড়ানোর সময় জনগণ যেমন তাদের প্রতিহত করেছিল, একইভাবে দেশজুড়ে জঙ্গিরা কোথায় বসে পরিকল্পনা করছে তা বের করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার কথা বলেন তিনি।
গোপন হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত এক সাংবাদিককে গ্রেফতারে একটি পক্ষের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপনারা কথা বলেন। আবার কেউ যখন হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকে, তাকে গ্রেফতার করলে আপনারা সমালোচনা শুরু করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে জড়িত এক সাংবাদিককে গ্রেফতারের পর আপনারা কথা শুরু করলেন। তাহলে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না? হত্যাকারীদের ধরতে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীরও সহযোগিতা কামনা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের প্রতিরোধেই আগুনে পুড়িয়ে মারা কমেছে, জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই আপনার সতর্ক থাকলে গুপ্ত হত্যাকারীদেরও ধরা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে কখনোই জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না।







