বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সব ধরনের সমস্যার সমাধান এবং চুক্তিগুলো আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করেছি। কোনো তৃতীয় পক্ষের প্রয়োজন পড়েনি। এটা একটা বড় কূটনৈতিক সাফল্য। অন্য কোনো দেশ এভাবে সাফল্য পায়না। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনায় শুক্রবার এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বলেন, ৭৫’র পর প্রতিজ্ঞা করেছি, বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা এবং আমার বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলা করার জন্য যত আত্নত্যাগ দরকার আমরা করবো। বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করবো। বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘মহান অর্জনের জন্য মহান ত্যাগ প্রয়োজন হয়।’ আমরা কতটা অর্জন করতে পেরেছি সেটা বড় কথা না, বরং আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পেরেছি সেটাই বড় কথা।
দেশের সবচেয়ে বড় শত্রু দারিদ্র একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমি যখনই আলোচনায় বসেছি, বলেছি আমাদের সবার একমাত্র শত্রু দারিদ্র। এই দারিদ্রকে আমাদের সম্মিলিতভাবে দূর করতে হবে। দারিদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে দরিদ্র মানুষগুলোকে দারিদ্রের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গও টানেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, সবাই বলতো দেশ স্বাধীন হলে কি হবে, বটমলেস একটা ঝুড়িতে পরিণত হবে। এখন আমাদের দেশ বটমলেস(তলাবিহীন)ঝুড়ি নয়, বরং ঝুড়ি ভরে গেছে উন্নয়নের জোয়ারে। তবে দেশের সাফল্যের ভাগিদার আমি একা নই। দেশের প্রতিটা মানুষ এই উন্নয়নে অংশ নিয়েছে। প্রবাসী বাঙালীরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অংশ নিয়েছে। সবাইকে আমি একযোগে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। দেশের সব সাফল্য আমি বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করছি।
মৃত্যুভয় আমি করিনা। জন্মেছি যখন মরতে তো হবেই। হারাবার আমার কিছু নেই। সেসব মাথায় রেখেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। জাতির জন্য যেকোনো আত্নত্যাগে আমি প্রস্তুত। ৪১ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হলো। বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরীতা নয়।’সেটাই আমরা মেনে চলি। আমি যখন ক্ষমতায় আসি তখন বলেছিলাম ‘আমি শাসন করতে আসিনি, সেবা করতে এসেছি।’ কথাটা সবসময় মাথায় রাখার চেষ্টা করি। এদেশের সব মানুষ যেনো সবসময় মিলেমিশে থাকতে পারি। খুব শিগগির আমরা বিশ্বের বুকে ক্ষুধামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নেব- এমনটাই স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।






