এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের সিকিমে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের আলোচিত প্রতিবাদী গ্রাফিতি চরিত্র ‘সুবোধ’-এর একটি ম্যুরাল দেখা যাওয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে এটি কে এঁকেছেন এবং বাংলাদেশের রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘হবেকি?’-এর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে সিকিম পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেল জানিয়েছে, সিকিমের রাংপো এলাকায় গ্যাংটক-রাংপো সড়কের মাজিতার নালা সেতুর দেয়ালে সম্প্রতি প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রশস্ত একটি গ্রাফিতি দেখা যায়। স্টেনসিল ও স্প্রে পেইন্টে আঁকা ওই ম্যুরালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিবাদের অন্যতম পরিচিত প্রতীক ‘সুবোধ’কে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশে ‘হবেকি?’ স্বাক্ষরও রয়েছে।
ম্যুরালটি এমন একটি এলাকায় পাওয়া গেছে, যা ভারতের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি। এই করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থল সংযোগ। এর আশপাশে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল অবস্থিত। ফলে বিষয়টিকে নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিলিগুড়ি করিডরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় প্রতীকী বা ব্যতিক্রমধর্মী কোনো কর্মকাণ্ড প্রশাসনের নজর কাড়াই স্বাভাবিক।
সিকিম পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ম্যুরালটি সত্যিই ‘হবেকি?’-এর আঁকা কি না অথবা এর সঙ্গে তার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, এটি সিকিমের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত কোনো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাজও হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘হবেকি?’ গত প্রায় এক দশক ধরে প্রতিবাদী শিল্পচর্চার জন্য পরিচিত। যদিও তার প্রকৃত পরিচয় আজও অজানা। তিনি কখনও প্রকাশ্যে আসেননি এবং কোনো সাক্ষাৎকারও দেননি।
‘সুবোধ’ চরিত্রটি প্রথম ২০১৭ সালে ঢাকার দেয়ালে দেখা যায়। জীর্ণ পোশাক পরা, ভীত-সন্ত্রস্ত এক তরুণের এই প্রতীকী চরিত্র ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়। ‘হবেকি?’ স্বাক্ষরসংবলিত এসব গ্রাফিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক শিল্পচর্চায় একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছে।






