আজ তামিম, সৌম্যর ওপর বড় অভিমানের দিন!
অমন একটা বিকেলের পর তারা এমন বিষাদের সকাল উপহার দিবেন তা কে জানতো। দশ উইকেট হাতে ছিল। শেষ দিন দ্বিতীয় বল থেকে ভাঙনের শুরু। শেষ পর্যন্ত হারতে হলো ২৫৯ রানে।
আজ সাকিব, মুমিনুলের ওপরও অভিমানের দিন!
সবাই একই কাজ করলেন। ডিফেন্স করে কেউ বল ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন না। এই ধরনের উইকেটে ব্যাটসম্যানের মুভমেন্ট রাখতে হয় সামনের দিকে। কখনো পপিং ক্রিজ ছেড়ে এসে বল টার্ন করার আগে খেলতে হয়। সবাই সেটা জানতেন। তারপরও পারলেন না…।
টস হেরে শুরু হয়েছিল যাত্রা। লঙ্কানরা তুলে নিয়েছিল ৪৯৪ রান। এর জবাব দিতে নেমে দারুণ শুরু করেন সৌম্য-তামিম। তারপরও ৩১২ রানে থামতে হয়। এরপর ২৭৪ রান করে দ্বিতীয় ইনিংসের ঘোষণা আসে লঙ্কানদের কাছ থেকে। বাংলাদেশের টার্গেট দাঁড়ায় ৪৫৭।
কঠিন এই পথে হাঁটার আগেই বাংলাদেশ জেনে গিয়েছিল ‘ভয় জাগানিয়া’ একটা ইতিহাসের কথা। গলে কোনো দল শেষ ইনিংসে ৩০০ রানের বেশি করতে পারেনি। বাংলাদেশ তাই ‘ড্র’র কথা ভেবেই মাঠে নেমেছিল। প্রথম ঘণ্টায় যে ঝড়টা ওঠে তা আর থামানো যায়নি। হেরাথ একাই ছয়জনকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ১৯৭ রানে আটকে ফেলেন। এই নিয়ে হেরাথের টেস্ট উইকেটসংখ্যা ৩৬৬টি। বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
প্রথম সেশনে আউট হওয়া পাঁচজনের চারজনই ডিফেন্স করতে যেয়ে আউট হন। দুইজন ফেরেন এলবিডব্লিউ হয়ে। বাকি দুজন ক্যাচ। ব্যাটের কানা নিয়ে বল যায় ফিল্ডারের হাতে।
গুনারত্নের ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে বিভ্রান্ত হন সৌম্য। ঠিক পরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ (৫৩)। এরপর মুমিনুল (৫) আসতে না আসতেই এলবিডব্লিউ। বল দেখে ডিফেন্স করেছিলেন। ব্যাট ফাঁকি দিয়ে পেছনের পায়ে লাগে। তামিম (১৯) পেরেরার বলে সামনের পায়ে ডিফেন্স করেছিলেন। বলে হালকা বাউন্স ছিল। সঙ্গে টার্ন। ব্যাট ‘চুমু’ দিয়ে তা চলে যায় প্রথম স্লিপে।
এরপর সাকিবের (৮) পালা। তাকে ফিরিয়েছেন ওই হেরাথ। অফস্টাম্পে লফটেড ডেলিভারি ছিল। ঠিকমতো বুঝে ওঠার আগেই ব্যাট দিতে যান। ব্যাটে লেগে বল চলে যায় লেগ স্লিপে। করুনারত্নে ঝাঁপিয়ে ধরে ফেলেন। রিয়াদকে (০) ফিরতে হয় হেরাথের একটি আর্ম বলে। সামনের পায়ে ঠেকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল লাগে প্যাডে।
লাঞ্চ থেকে ফিরে ঠিক শুরুর অবস্থায় পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় বলে ফিরে যান মুশফিক। লেগ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে কী করতে চেয়েছিলেন, তিনিই ভালো জানেন। ধরা পড়েন উইকেটের পেছনে। বাকিরাও যাওয়া আশার মিছিলে নাম লিখিয়ে ‘আশার সমাধি’ রচনা করেন!
শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ১২৯.১ ওভারে ৪৯৪ (কুশল মেন্ডিস ১৯৪, আসিলা গুনারত্নে ৮৫, ডিকেওয়াল্লা ৭৫, পেরেরা ৫১; মোস্তাফিজ ২/৬৮, মিরাজ ৪/১১৩, তাসকিন ১/৭৭, শুভাশিস ১/১০৩, সাকিব ১/১০০ )
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৯৭.২ ওভারে ৩১২ (তামিম ৫৭, সৌম্য ৭১, মুমিনুল ৭, মুশফিক ৮৫, সাকিব ২৩, মাহমুদউল্লাহ ৮, লিটন ৫, মিরাজ ৪১, তাসকিন ০, শুভাশিস ০*, মোস্তাফিজ ৪; লাকমল ১/৪২, কুমারা ১/৭০, পেরেরা ৩/৫৩, হেরাথ ৩/৭২, সান্দাকান ১/৬৯)
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৬৯ ওভারে ২৭৪/৬ডি. (থারাঙ্গা ১১৫, চান্দিমাল ৫০; মিরাজ ২/৭৭, সাকিব ২/১০৪, তাসকিন ১/৩২, মোস্তাফিজ ১/২৪)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৬০.২ ওভারে ১৯৭ (সৌম্য ৫৩, মুশফিক ৩৪, লিটন ৩৫; হেরাথ ৬/৫৯, পেরেরা ২/৬৬)







