বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশেরও বেশি যেসব দেশে বাস করে সেসব দেশে গত পাঁচ বছরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হ্রাস পেয়েছে। মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে ইউনেস্কো প্রতি বছর ৩ মে বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম বা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উদযাপন করে। এ বছর দিবসটিতে ইউনেস্কোর থিম ডিজিটাল অবরোধের অধীনে সাংবাদিকতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের অভিগম্যতা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার উপর ডিজিটালাইজেশনের প্রভাবের উপর আলোকপাত করবে।
আল জাজিরার অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেস্কোর মতে, ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৪৫৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। শুধু তাই নয় বিশ্বের ৮৫ শতাংশ জনগন তাদের দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হ্রাস হতে দেখেছে।
রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স মিডিয়ার স্বাধীনতার চিত্র তুলে ধরার জন্য ১৮০টি দেশ এবং পাঁচটি অঞ্চলে বহুত্ববাদ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, আইনী কাঠামোর দৃঢ়তা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো পরিমাপ করেছে।
২০২১ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স অনুসারে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সবচেয়ে বাজে অবস্থা ইরিত্রিয়ায়। তারপর রয়েছে যথাক্রমে উত্তর কোরিয়া, তুর্কমেনিস্তান, চীন এবং জিবুতি।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রদানের ক্ষেত্রে ইউরোপ প্রথম অবস্থানে রয়েছে। তবে এখানে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে আরএসএফ।
হাঙ্গেরির গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের আক্রমণাত্মক ক্র্যাকডাউনের কারণে হাঙ্গেরি বিশ্বের ৯২ তম স্থানে রয়েছে। আরএসএফ বলছে, অরবান স্লোভেনিয়া এবং পোল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলিকে রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করেছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নরওয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড, এরপর রয়েছে সুইডেন, ডেনমার্ক এবং কোস্টারিকা।
প্রতি বছর কত সাংবাদিক নিহত হয়?
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)’র তথ্যানুসারে, ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত ২৭ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনেই অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
সিপিজে সাংবাদিকদের এমন ব্যক্তি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে যারা সংবাদ কভার করে এবং যেকোনো মাধ্যমে (মুদ্রণ, অনলাইন, সম্প্রচার, ফটোগ্রাফ এবং ভিডিও) গণ মানুষের আগ্রহ উদ্দীপক বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলির প্রচার করে থাকেন।
এ বছর মেক্সিকোতে অন্তত সাতজন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, হাইতিতে তিনজন এবং কাজাখস্তান, ভারত, মায়ানমার, চাদ, ব্রাজিল ও গুয়াতেমালায় একজন করে সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
সিপিজে অনুসারে, ১৯৯২ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত ২ হাজার ১৪৬ জন সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইরাকে অন্তত ২৮৩ জন এবং সিরিয়ায় ১৫৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

কত সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করা হয়েছে?
২০২১ সালে সারা বিশ্বে ২৯৩ জন সাংবাদিককে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। গত বছর চীন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (৫০ জন) সাংবাদিককে বন্দী করেছে। এরপরে মিয়ানমার (২৬), মিশর (২৫), ভিয়েতনাম (২৩) এবং বেলারুশ (১৯) অবস্থান করছে।
সিপিজে অনুসারে, এই বছর অন্তত ৬৫ জন সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছেন।

রাশিয়ায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা
২০২১ সালে আরএরএফ’র বিশ্ব প্রেস ফ্রিডম সূচকে রাশিয়া বিশ্বে ১৫০ তম স্থানে রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার অনেক সাংবাদিক রাষ্ট্রীয় চাপের মুখোমুখি হয়েছেন এবং প্রতিশোধের ভয়ে সেলফ-সেন্সর আরোপ করতে বাধ্য হয়েছেন।
মার্চ মাসে রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘ডুমা’য় রাশিয়ান সামরিক বাহিনী সম্পর্কে “ভুয়া খবর” ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি আইন পাস করেছে, যার শাস্তি ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।

ইউনেস্কোর মতে, ২০১৬ সাল থেকে ৪৪টি দেশে অন্তত ৫৭টি আইন ও প্রবিধান গৃহীত হয়েছে বা সংশোধন করা হয়েছে৷ এই আইনগুলিতে ভুল- এবং বিভ্রান্তি, সাইবার অপরাধ এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের শাস্তি দেওয়ার লক্ষ্যে অত্যধিক অস্পষ্ট ভাষা রয়েছে, কিছু সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হতে পারে-এমন বিষয়ের প্রয়োগ রয়েছে৷








