বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেয়ার অংশ হিসেবে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ সহযোগিতা দিয়েছে ভারত। ভারতের দেয়া ঋণ সহায়তার এই ৩৬ হাজার কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশ ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প করবে বলে ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন, পায়রা বন্দরের বহুমুখী টার্মিনাল নির্মাণ, মংলা বন্দর উন্নয়ন, বুড়িগঙ্গা নদী পুনরুদ্ধার ও তীর সংরক্ষণসহ রেলপথ, সড়কপথ, বিমানবন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে এই ঋণ প্রকল্প বাংলাদেশের জন্য উপকারী হয়ে উঠবে বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য এই বিপুল পরিমান ঋণ দেয়ায় আমরা ভারত সরকার এবং ভারতের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি আমরা বাংলাদেশ সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মন্তব্য তুলে ধরতে চাই। ঋণ সহায়তা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক এ সাংস্কৃতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে। তাই এখন সময় এসেছে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নেয়ার, অমিমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান করার। কারণ দুই দেশের সম্ভাবনার সর্বোচ্চটা নিশ্চিত করতে পারলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সরকার পর্যায়ে এর সুফল পাওয়া যাবে।’ অরুণ জেটলির এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করছি। কেননা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিবেশির সঙ্গে সুসম্পর্ক উভয় দেশের জন্য খুব প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়। যেমন সর্বশেষ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈষম্য ৫শ ৪৮ কোটি ৯৮ লাখ ডলার। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে আনা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়ও লক্ষণীয়। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে বাধ্য করার ক্ষেত্রে ভারত আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে আমরা মনে করি। ঋণ সহায়তার পাশাপাশি দু’দেশের যেকোন সংকটে একে অপরের পাশাপাশি থেকে উভয়ের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেয়ার জন্য আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান করছি। কেননা নৈতিক ইস্যুতে প্রতিবেশির পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু অর্থ সহায়তা কোন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে না।








