প্রশ্নপত্র ফাঁস, জিপিএ ফাইভ বিক্রি, লেকহেড গ্রামার স্কুল চালুর ব্যবস্থা করা, মন্ত্রণালয় থেকে ভুয়া সনদ সত্যায়িত করা, দুর্নীতিগ্রস্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের অনুমতি পাইয়ে দেয়া এবং টাকার বিনিময়ে সরকারি কলেজ ও স্কুল শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বদলির ব্যবস্থা করাসহ নানা অভিযোগে আটক হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দু’জন কর্মচারি। তারা হলো শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোতালেব হোসেন এবং উচ্চমান সহকারি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি হয়েও এই দু’জনের ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি, গাড়িসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আয়ের সঙ্গে সম্পদের পাহাড় সমান ব্যবধান থাকায় বিব্রত মন্ত্রণালয়। যদিও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারো ব্যক্তিগত দুর্নীতির দায় নেবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তর। যারা দুর্নীতি করেছে কলঙ্কের দায় তাদেরকেই বহন করতে হবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন জরিপে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত উঠে এলেও এতদিন তা অস্বীকার করে এসেছে মন্ত্রণালয়। এখন দেখা যাচ্ছে, খোদ মন্ত্রীর দপ্তরেরই কেউ কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। সরাসরি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কীর্তি আমাদের ভাবাচ্ছে। একটা সময় সরকারি কর্মচারি-কর্মকর্তাদের অপ্রতুল বেতনভাতা ঘুষ-দুর্নীতির কারণ বলে উল্লেখ করা হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন দ্বিগুণ করা হলেও ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম প্রশাসনে জেঁকে বসেছে বললে ভুল হবে না। বিভিন্ন সরকারি কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো ও দুর্নীতি বিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা ও কর্ম সর্ম্পকে প্রশ্ন তৈরি করছে, এসব ঘটনা তারই প্রমাণ। বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠি এসব কাজে নিয়োজিত থাকলেও তার দায় গিয়ে পড়ছে ক্ষমতাসীন দলের উপরে। বিভিন্ন সরকারি কাঠামো জনগণকে সেবা দেবার পরিবর্তে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের যে মিশনে লিপ্ত, তা বন্ধ হওয়া অতীব জরুরি। বিষয়টি নিয়ে স্ব স্ব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবে বলে আমাদের আশাবাদ।









