২০১৬ সালের ১৩ মে। স্থান নারায়নগঞ্জের বন্দর উপজেলার কল্যাণদীতে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের বারান্দা। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত সবার সামনে কান ধরে উঠ-বস করছেন। তাকে শারীরিক নির্যাতনও করা হয়। তার বিরুদ্ধে কথিত অভিযোগ: তিনি ধর্মের অবমাননা করেছেন। একজন প্রধান শিক্ষককে এভাবে অপমান করার ঘটনা আমাদের বিবেককে স্পর্শ করে যায় সেদিন। শিক্ষক শ্যামল কান্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে ফেসবুক থেকে রাজপথে কান ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিবেকবান মানুষরা। কিন্তু এতে শ্যামল কান্তির মুক্তি মেলেনি। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলনে সেলিম ওসমান শ্যামল কান্তিকে ‘তার ছেড়া মাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করে দ্বিতীয় দফায় অপমান করেন। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি পান তিনি। একজন স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে ১০ মাস পরে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। ওইদিন বিকেলে আদালতে আত্মসর্মণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বুধবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১২ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষক শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে প্রথমে যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটি এর কোন সত্যতা খুঁজে পায়নি। আমরা চাই শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে আনা দ্বিতীয় অভিযোগটির ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। সুষ্ঠু তদন্ত করে তিনি দোষী হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হোক। আর যদি নিরপরাধী হন তাহলে তাকে এসব হয়রানি থেকে রেহাই দেয়া হোক। একজন স্কুলের প্রধান শিক্ষককে দিনের পর দিন এভাবে হেনস্থা করা সভ্য সমাজে চলতে পারে না। একজন মানুষ গড়ার কারিগর গত এক বছর চার মাস ধরে নিজ কর্মস্থলে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হবার পর মনে ব্যথা বয়ে চলেছেন। যারা তাকে এরকম শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয়ে ফেলেছে, তারাই আবার ক্রমাগত হেনস্থা করে যাচ্ছে। যাবতীয় হেনস্থা থেকে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে মুক্তি দেয়া হোক।









