আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবসের ঠিক আগ মুহূর্তে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলছে, যুদ্ধ ও সহিংসতাসহ নানা রকম নির্যাতনের কারণে বিশ্বে জোর করে বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ২০১৭ সালেও অব্যহত রয়েছে।
এ নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান দিয়ে ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় গত বছরের শেষ নাগাদ ৬ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। যার মধ্যে শুধু ২০১৭ সালেই বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১ কোটি ৬২ লাখ। আবার এই ৬ কোটি ৮৫ লাখ মানুষের মধ্যে শরণার্থী হয়েছে ২ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ। যাদের বেশির ভাগই ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া থেকে আসা।
ইউএনএইচসিআর-এর এই প্রতিবেদনই প্রমাণ দিচ্ছে, বিশ্বে যুদ্ধসহ নানা সহিংস ঘটনা যেমন বাড়ছে; তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এসব শরণার্থীর সংখ্যাও। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় এর প্রভাবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বড় ধরণের অার্থ-সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়ছে বাংলাদেশের মতো অল্প আয়ের দেশগুলো।
আমরা এরই মধ্যে দেখেছি, ২০১৭ সালের আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের ঢল। যাকে ইউএনএইচসিআর অভিহিত করেছে গত এক দশকের সবচেয়ে বড় শরণার্থীর ঢল হিসেবে। রুয়ান্ডার গণহত্যার পর নিজ দেশ ছেড়ে এত বড় সংখ্যক মানুষকে অার পালিয়ে যেতে দেখা যায়নি।
তবে সবকিছুর পর এর প্রকৃত ভুক্তভোগী বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশর মানুষ। আর এ সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘসহ অান্তর্জাতিক বিশ্বের কোনো শক্ত পদক্ষেপ নেই। দেখছি, দেখছি করে এখন পর্যন্ত মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধ্য করার মতো তৎপরতা দেখা যায়নি।
শুধু বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের নিয়ে তাদের উদ্বেগ আছে। আজকেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজারে থাকা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের জন্য জরুরিভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহয়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, বর্ষার মৌসুমে বন্যার কারণে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বাসস্থান ঝুঁকিতে রয়েছে।
আমরা লক্ষ্য করছি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অবস্থা দিন দিন অবনতি হলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বড় কোনো অগ্রগতি নেই। এই অবস্থা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আরো বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।










