প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলছেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ একটি সফল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সেলিনা জাহান লিটার এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার যতবারই ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখে গেছে। পূর্বের ধারাবাহিকতায় আমাদের সরকারের বর্তমান আমলেও উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
‘এটি আমাদের জন্য গৌরবের যে, বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যা স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে। অপরদিকে, বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন মানদণ্ডে ২০১৫ সালেই সরকার নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পদার্পণ করেছি। এ উত্তরণের ফলে সরকারের চাহিদা ও সম্মতির প্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্পৃক্ত হওয়ার পথ আরও সুগম হয়েছে।’

তিনি বলেন, এতে করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার আরও জোরদার করার মাধ্যমে অধিক হারে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। সার্বিক এ সুবিধাদির অংশীদার হবে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ। পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশী যারা এতদিন নিম্ন আয়ের দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতো, তারা এখন মধ্যম আয়ের উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ, সম্মানজনক ও গৌরবের বিষয়।
‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বহির্বিশ্বে যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষণীয় হয়েছে তা এই অর্জনের মাধ্যমে আরও সুদৃঢ় হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে স্বীয় অবস্থান যথাযথভাবে তুলে ধরে সরকার আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় থেকে উত্তরণ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিফলন। কারিগরি জ্ঞান, উৎপাদনশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য খাতে বাংলাদেশ যে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে এটি তারই স্বীকৃতি। এর ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ আরও আগ্রহী হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার এখানেই থেমে থাকতে চায় না। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন তখনই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে যখন ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন এবং ২০৪১ সালে মধ্যে বাংলাদেশ একটি উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পরিণত হবে।
এ লক্ষ্যে দেশের আপামর জনসাধারণকে নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করে যাবে বলে জানান শেখ হাসিনা।








