রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) দাবি ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে’ মিয়ানমার সরকার বলেছে, এ ইস্যুতে আইসিসির হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার নেই।
বৃহস্পতিবার নেদ্যারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির তিন বিচারক বিশিষ্ট প্রি-ট্রায়াল কোর্ট রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর যে আবেদন, তার পক্ষে মত দেন। এর পর পরই এক বিবৃতিতে এ কথা জানান আদালত।
আইসিসির এই রুলিং প্রত্যাখ্যান করে শুক্রবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্তের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে রায়কে ‘ত্রুটিযুক্ত প্রক্রিয়ার ফল এবং সন্দেহজনক আইনি যোগ্যতাসম্পন্ন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘শুধু তাই নয়, কিছু ব্যক্তিগত দুঃখজনক ঘটনার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবে বিবেচনার অনুমতি দেয়া হয়েছে, যেগুলোর উত্থাপিত আইনি যুক্তিতর্কের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই নেই। এর মধ্য দিয়ে আদালতকে আবেগতাড়িত করে চাপপ্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে,’ বলা হয়েছে বিবৃতিতে।
এর আগে আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য অঞ্চলে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করার দাবি জানায় জাতিসংঘ। সামরিক বাহিনীর হামলা ও নির্যাতন থেকে পালিয়ে রক্ষা পাওয়া কয়েকশ’ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি জানানো হয়।
প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বর্মি সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ সহিংসতার তীব্র নিন্দাও জানানো হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিষয়টি আইসিসি’তে তোলার আহ্বানও জানিয়েছিল জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের দেয়া ওই প্রতিবেদনও প্রত্যাখ্যান করে মিয়ানমার সরকার। সরকারের মুখপাত্র জ হতে বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের কোনো সমাধানের সঙ্গে মিয়ানমার একমত নয় বা তা গ্রহণও করবে না।







