রোহিঙ্গা সমস্যা রাজনৈতিক এবং তার সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই হওয়া উচিত বলে মনে করে ইউরোপিয় ইউনিয়ন।
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সংস্থাটির মানবিক সহায়তা ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিসস্তোস্ত স্তিলিয়ানিদেস বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে সম্মানের সঙ্গে ফিরে নেয়াই সমাধান।
রোহিঙ্গা সমস্যায় বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি আরো বলেন, যতদিন পর্যন্ত এ সমস্যা থাকবে, রোহিঙ্গাদের সহযোগিতা দেবে ইউরোপিয় ইউনিয়ন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে ইউরোপিয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টের সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ সফর করছেন ক্রিসস্তোস্ত স্তিলিয়ানিদেস। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে।
রোহিঙ্গাদের পাশে থাকায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন ইইউ কমিশনার।
সাইপ্রাসের নাগরিক এ কূটনীতিক মনে করেন, সমস্যার গোড়া মিয়ানমারে এবং সেখানে ফিরে যাওয়াই সমাধান।
এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জন্য বরাদ্দ আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকই ইউরোপিয় ইউনিয়ন দিচ্ছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতার কারণেই ইউরোপ রোহিঙ্গাদের পাশে থাকবে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।
৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘ একে ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।








