প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলমানের উপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। উপযুক্ত কারণ বা অপরগতা ছাড়া ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গ করা ইসলামী শরীয়তে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। তাই শরীয়ত ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীর উপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টি সাব্যস্ত করেছে।
কাযার বিধান হলো- একটি রোজার পরিবর্তে রমজান ব্যতীত অপর কোন মাসে একটি রোজা আদায় করা। আর কাফফারার বিধান হলো- একটি রোজার পরিবর্তে লাগাতার ৬০টি রোজা আদায় করা। তাতেও অপারগ হলে ৬০জন গরীব-মিসকিনকে দুই বেলা মধ্যম পন্থায় আহার করানো।
নিচে উল্লেখিত কারণে রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হয়।
১) ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে
বিনা কারণে রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত কোন কিছু আহার বা পান করলে তার উপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করা আবশ্যক। যেমন হাদিসে পাকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, “জনৈক ব্যক্তি রমজানে রোজা অবস্থায় স্বেচ্ছায় পানাহার করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একজন দাস আযাদ করার জন্য অথবা দুই মাস (একাধারে) রোজা রাখার জন্য কিংবা ৬০জন মিসকিনকে আহার করানোর আদেশ করলেন” (দারে কুতনি)।
২) রোজা অবস্থায় ধূমপান করলে
রোজা অবস্থায় ধূমপান করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তাকে কাযা ও কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে। কেননা সিগারেট-হুক্কা ইত্যাদি ধূমপানও পানীয় এর অন্তর্ভূক্ত।
৩) ইচ্ছাকৃত বমি করলে
রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত বমি করলে তাহলে তার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আবশ্যক হবে।
৪) কোন অখাদ্য ভক্ষণ করলে
খাদ্য নয় এমন জিনিস। যেমন- পাথরের কণা, লোহার টুকরো বা ফলের বিচি, ইত্যাদি।
৫) রোজা অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করলে
রোজা অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস করলে, তাতে বীর্যপাত হোক বা না হোক। সেক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর কাযা ও কাফফারা আবশ্যক হবে। হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একজন দরিদ্র সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, “আমি রোজা রেখে স্ত্রী সহবাস করেছি। মহানবী তখন তাকে রোজার কাযা ও কাফফারা আদায়ের আদেশ করেছিলেন” (সহিহ বুখারি)।
৬) সঙ্গম ব্যতীত বিকল্প পথে বীর্যপাত ঘটালে
স্বেচ্ছায় দিনের বেলায় সঙ্গম ছাড়া বিকল্প পন্থায় বীর্যপাত ঘটালে তার উপর রোজার কাযা ও কাফফারা উভয়টি আবশ্যক হবে।








