চট্টগ্রাম থেকে: বিপিএলে রাইলি রুশোর ৩১ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংসটি যারা দেখেননি, হয়ত ভাবছেন এ সাউথ আফ্রিকান ঝড় তুলেছিলেন সাগরিকায়। আসলে তেমনটা নয়। শুক্রবার একদমই শান্ত মেজাজে খেলেছেন খুলনা টাইগার্সের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তাড়াহুড়া না করে ক্রিজে স্থির থেকেও যে টি-টুয়েন্টিতে দুইশর উপরে স্ট্রাইকরেটে রান আানা যায় তার বিজ্ঞাপন রুশোর ইনিংসটি। বলের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে হয়নি। টাইমিং এতটাই ভালো ছিল যে সহজেই বল বেরিয়ে গেছে সীমানার বাইরে।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রংপুর রেঞ্জার্স বোলারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলা রুশোর ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ২টি ছয়ের মার। সব বলই খেলেছেন ব্যাটের সুইটপার্টে। এমনদিন রুশোর এসেছিল ২০১০ সালে। নিজ দেশে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৩১৯ রানের ইনিংস খেলার পথে পেয়েছিলেন এমন অনুভূতি। মাঝ ব্যাটে সেদিন নাকি এমন করেই লাগছিল বল।
‘এটা এমন একটা দিন যখন বল মাঝ ব্যাটে লাগছিল। উইকেটে অনেক সময় পেয়েছি, যেটা দীর্ঘদিন পাইনি। সবশেষ এতটা ভালো অনুভব করেছি যখন চার দিনের ম্যাচে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলাম। আজ সবকিছুই আমার মাঝ ব্যাটে লাগছিল।’
বিপিএলে রুশো মানেই রান। মিরপুরে প্রথম ম্যাচেও ফিফটি পেয়েছিলেন। খেলেছিলেন ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। পরের ম্যাচ করেন ৪২। শুক্রবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ৬৬ রাানের অপরাজিত ইনিংস। তার দল খুলনা টাইগার্স জিতেছে প্রথম তিন ম্যাচই।
গত আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ১৪ ম্যাচে একটি সেঞ্চুরিতে ৫৫৮ রান করে হয়েছিলেন সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হয়েও বাংলাদেশের কন্ডিশনে এতটা ধারাবাহিকতার পেছনে রহস্য কী? নিজেও জানেন না রুশো। তবে কয়েকটি কারণের একটি হতে পারে শান্ত প্রকৃতির এ ক্রিকেটার নিজের সহজাত চরিত্রটা ধরে রাখেন মাঠেও।
‘কোনো রহস্য নেই আসলে। আমি বিশ্বাস করি, আপনি যেটা করবেন, সেটা উপভোগ করতে হবে, সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করতে হবে। যে দিনটি আমার সেটি আমারই দিন। শান্ত ও নির্ভার থাকার চেষ্টা করি। ক্রিকেট খেলাটা অনেক উপভোগ করি এবং ভালোবাসি। এখানে কোনো রহস্য নেই।’
প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যান ফজলে রাব্বি ফিল্ডিংয়ের সময় রুশোর ব্যাটিং দেখেছেন খুটিয়ে খুটিয়ে। ৬৬ রানের ইনিংসের পথে এ বাঁহাতির টাইমিং, ভারসাম্য আকৃষ্ট করেছে টাইগার ক্রিকেটারকে।
‘অবশ্যই শেখার আছে। ওরা যখন উইকেটে আসে তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়। কোন উইকেট কী ধরণের খেলা উচিত। এসেই যখন বাউন্ডারি পাচ্ছিল, ওর মতো খেলে গেছে। ওরা হচ্ছে সুইট টাইমার অব দ্য ওয়ার্ল্ড। সুন্দর করে টাইমিং করে। আমরা দেখা যায় অনেকসময় জোরাজুরি করি। ওদের কাছ থেকে শেখার একটা বিষয়, ব্যালেন্স ঠিক রেখে টাইমিংটা।’







