রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জনের মধ্যেই নির্ধারিত সময়ের আগেই থাইল্যান্ড সফর শেষ করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে দেশে ফিরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্পিকার বলেন, তিনি গত এক সপ্তাহ দেশের বাইরে ছিলেন, তাই এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। পরে আবার বলেন, ‘আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছান স্পিকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসাজনিত কারণে গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে গিয়েছিলেন এবং মেডিকেল চেকআপ শেষ হওয়ায় দেশে ফিরে এসেছেন।
সাংবাদিকরা সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি তা এড়িয়ে যান। স্পিকার বলেন, ‘এটা অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। রাষ্ট্রপতি কী করবেন বা করবেন না, তা আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।’
তিনি অবশ্য সংবিধানের বিধান তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এর মধ্যে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
মূলত চিকিৎসার জন্য ১৯ জুলাই ব্যাংকক গিয়েছিলেন স্পিকার। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জনের মধ্যে সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবারই দেশে ফেরেন তিনি।
এদিকে, বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরিত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিমানবন্দরে সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা স্পিকারকে অভ্যর্থনা জানান। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি সরাসরি সংসদ ভবনে তার সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার গাড়িবহরে নিরাপত্তা বাহিনীর যানবাহনও ছিল।







