‘রির্টান টু ইসলাম’ (আরটিআই) এটি একটি সংগঠনের নাম। র্যাব বলছে, রাজধানীর আফতাবনগর থেকে গ্রেফতার হওয়া নব্য জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-জেএমবি বা নব্য জেএমবির ৩ জঙ্গির মধ্যে একজন মুশফিকুল হক। এই সংগঠনের মাধ্যমেই জঙ্গি তৎপরতায় জড়ান।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে রাজধানীর আফতাবনগর থেকে গোপন বৈঠক করার সময় মুশফিকুল হক (২৪), বিপ্লব হোসেন কামাল (২৬), মামুনুর রশিদকে (২৬) আটক করে র্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে জিহাদি বই, ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ করা হয়।
বুধবার কাওরান বাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেনেন্ট কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, মুশফিকুল বিগত ২০১২ সাল থেকে সে রিটার্ন টু ইসলাম (আরটিআই) নামের একটি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল। সংগঠনটি উগ্র মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিল।
“এই সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মামুনুর রশিদ ওরফে কাজল ওরফে ইবনে আজিজুর রহমান (যিনি গত ৬/৭ মাস ধরে সিলেট থেকে নিখোঁজ) প্রথমে মুশফিকুলকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে। পরে মহাখালীতে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকায় আসলে ইমাম মেহেদী, বিপ্লব হোসেন কামাল ওরফে সুন্নাহ কামাল ওরফে মাওলানা কামাল হোসেন বিপ্লবী, তাওহীদ সহ কয়েকজন তাকে মহাখালী কেন্দ্রিক সারোয়ার-তামিম গ্রুপ এর সক্রিয় সদস্য হিসাবে প্রথমে অনুবাদক হিসাবে নিয়োজিত করে।”
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মুশফিকুল জানায়, মোবাইলে বিভিন্ন সাংকেতিক বার্তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপস এর মাধ্যমে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বার্তা আদান প্রদান, জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ভিডিও ইত্যাদি বিষয়ে সে পারদর্শী। এই সংগঠনের কার্যক্রম ঠিক রাখতে আটক জঙ্গি মুশফিকুল বিভিন্ন সময় প্রায় লক্ষাধিক টাকা অর্থায়ন করেছে।
র্যাব-৩ অধিনায়ক আরো বলেন: মামুনুর রশিদ ওরফে আবু ইউশা ও বিপ্লব হোসেন কামাল ওরফে সুন্নাহ কামাল জানায় তারা ইমাম মেহেদী এবং তাওহিদের মাধ্যমে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য হিসাবে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। আরবী ভাষায় দক্ষতা থাকায় সে অনুবাদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিল।
“এছাড়াও জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করার জন্য ইমাম মেহেদীকে বেশকিছু ভূয়া রেজিষ্ট্রেশনকৃত সীম প্রদান করে এবং ইন্টারনেট হতে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ভিডিও সংগ্রহ ও সরবরাহ করত।”
বিপ্লব র্যাবকে জানায়, হলিআর্টিজান ঘটনার পূর্ব থেকেই জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য হিসাবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণ ও অংশগ্রণের জন্য কর্মী সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল। এর আগে তিনি একটি আইটি কোম্পানীতে চাকরি করতেন।







