খুলনা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন হত্যা মামলার রায়ে ১৭ আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৩০২/৩৪ ধারায় আসামিদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। তবে যে সকল আসামির বয়স ১৮ বছরের নিচে তাদের সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২৩ মে দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৩ ও শিশু আদালতের বিচারক মো. আ. ছালাম খান এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে, মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে সাব্বির হাওলাদার (১৬), বিএম মাজিব হাসান রয়েল (১২), শাহারিয়ার জামান তুর্য্য (১৭), রিয়ান শেখ ওরফে রেফাত (১২), ফাহিম ইসলাম মনি (১৪), সানি ইসলাম ওরফে আপন (১৩), জিসান খান (১৫), তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩), শাকিব খান শিমুল (১৭), অন্তর কুসার দাস(১৫), মো. হাকিম (১৭), সৈকত (১৬), শেখ সাকিব (১৭), আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৫), শেখ তামিম (১৬), সাকরান সালেহ ওরফে মিতুল (১২), মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম (১৪)। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনপক্ষের আইনজীবী ফরিদ আহমেদ জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে কনসার্ট দেখার জন্য কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা হয় রাজিন। রাতে অনুষ্ঠান স্থলে বসাকে কেন্দ্র করে আসামি তামিমের সাথে রাজিনের হাতাহাতি হয়। রাত ৯ টার দিকে রাজিনকে অনুষ্ঠানের মঞ্চের পিছনে নিয়ে গিয়ে চড় থাপ্পড় এবং ছুরিকাঘাত করে। রাজিনর মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজিনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এরপর নিহতের পিতা আলম বাদী হয়ে বাদী মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে সাব্বির হাওলাদার , বিএম মাজিব হাসান রয়েল, শাহারিয়ার জামান তুর্য্য , রিয়ান শেখ ওরফে রেফাত , ফাহিম ইসলাম মনি , সানি ইসলাম ওরফে আপন এই ৬ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১০ জনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন, যার নং ২০। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি খালিশপুর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় ২৯ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। নিহতে পরিবার রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেননি।










