রপ্তানি আয় কমছেই। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম ৮ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানি আয় কম হয়েছে ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই সাথে গত বছরের ঠিক একই সময়ের চেয়ে তা ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম।
বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রপ্তানি আয়ের এই হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় তারা শঙ্কায় রয়েছেন। এই জন্য নগদ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি- বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ অর্থবছরের শুরু থেকেই তৈরি পোশাকের ব্যবসা কম। বিশ্ববাজারে পোশাকের ব্যবসা কমছে। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আমরা যতটুকু পিছিয়ে আছি; আমাদের ব্যবসা ততটুকু কমেছে। কিন্তু রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা ছিল।
শুধু তাই নয়, আগের তুলনায় ব্যবসাও কমেছে ৫ শতাংশ। দিন দিন খরচ বাড়ছে। সব মিলিয়ে পোশাক খাত বড় চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আগামীতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা মুশকিল হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এই জন্য নতুন বাজার খুঁজতে হবে। এক পণ্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ করতে হবে। একই সাথে চলমান পোশাকখাতের দুরবস্থা থেকে উত্তরণে এ খাতে নগদ প্রণোদনা দেয়া দরকার বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
ইপিবির তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) পণ্য রপ্তানিতে আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয় ৩ হাজার ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ৬২৪ কোটি ১৮ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ কম এবং গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ কম।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে। মোট রপ্তানিতে এর অবদান ৮৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি আয়ও কমেছে। ফলে সামগ্রিকভাবে পণ্য রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইপিবির তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ২ হাজার ১৮৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
তবে পোশাক রপ্তানি কমলেও পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে। এ খাতে ৮ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৬৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি।
আলোচ্য সময়ে ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম।
এছাড়া হোম টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ৫২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
এ সময় ৩৭ কোটি ডলারের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি হয়েছে। এক্ষেত্রে রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
গত অর্থবছরে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার।









