টাঙ্গাইলের কালিহাতী কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে ওই কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ওয়াজেদ আলী খানকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে পুলিশ।
এর আগে ওই ছাত্রীর পিতার করা থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও প্রভাবশালী মহলের চাপে মুচলেকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়ে আন্দোলনে নামলে গতকাল ১৬ আগষ্ট মঙ্গলবার তাকে আবার গ্রেফতার বাধ্য হয় কালিহাতী থানা পুলিশ।
কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. আখেরুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কালিহাতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ওয়াজেদ আলী খানের বিরুদ্ধে কলেজের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে ওই ছাত্রীর পিতা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট রাতে নিজ বাড়ি থেকে ওই শিক্ষককে আটক করা হয়। ওই রাতেই কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম ও দু’জন শিক্ষক প্রতিনিধি থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নেন। পরে আবার তাকে আটক করা হয়েছে।
ছাত্রীটির বাবা বলেন, ওই শিক্ষকের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে। সেখানে আমার মেয়ে নাচের শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দিলেও তার অশোভন আচরণের কারণে কাজ ছেড়ে দেয়। চাকরি বাদ দিলেও কালিহাতী কলেজে মেয়ে পড়াশুনা করতে গেলে, সে নানা ভাবে হয়রানি করতো। সর্বশেষ ওই শিক্ষক মেয়ের মোবাইলে টাকার বিনিময়ে কুপ্রস্তাব দিলে থানায় অভিযোগ করি।
এলাকাবাসী জানায়, পূর্বেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। এজন্য তাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বহিস্কারও করেছিল। ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে আবার সে কলেজে যোগদান করে। এ ঘটনায়ও সে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলকে কাজে লাগিয়ে থানা থেকে ছাড়া পেলে আমরা তার শাস্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করি। আন্দোলনের মুখে গত মঙ্গলবার রাতে ওই শিক্ষককে আবার আটক করে পুলিশ।
কালিহাতী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, অন্যায়ের সাথে কোন আপোষ নাই। তিনি যদি দোষী হন তাহলে তার শাস্তি নিশ্চিত করবে আদালত।








