একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির পক্ষে হয়ে কাজ করার জন্য ওয়াশিংটনভিত্তিক দু’টি লবিং ফার্ম নিয়োগ দেয়ার খবরকে অপপ্রচার বলে দাবী করেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিকে নিয়ে এ ধরনের বহু ‘ফেইক নিউজ’ হয়েছে এবং হবে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য পলিটিকো’র সংবাদে বলা হয়, আবদুস সাত্তার নামের এক ব্যক্তি বিএনপির পক্ষ থেকে ‘ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিক’ ও রাস্কি পার্টনার্স’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছেন।
‘চুক্তি অনুযায়ী ব্লু স্টারকে আগস্ট মাসে ২০ হাজার ডলার এবং বছরের বাকি মাসগুলোয় ৩৫ হাজার ডলার করে দিতে হবে। রাস্কি পার্টনার্স ব্লু স্টারের সাব-কন্ট্রাক্ট হিসেবে কাজ করবে। এই প্রতিষ্ঠানটি আগস্টের জন্য পাবে ১০ হাজার ডলার এবং বাকি মাসগুলোর জন্য পাবে ১৫ হাজার ডলার।’
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও কংগ্রেসম্যান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা, নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক, পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউটসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী বিএনপির হয়ে কাজ করবে ব্লু স্টার।
এ বিষয়ে বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টিকে তারা অস্বীকার করেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি তিনি এ বিষয়ে অবগত নন বলেও জানান।
বিএনপির অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। যে বিষয়ে অবগত নই তা নিয়ে মন্তব্য করা উচিত হবে না। তবে এটুকু বলতে পারি যে, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রচুর অপপ্রচার শুরু হয়েছে।
‘২০০৮ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখেও তা দেখেছি। বিএনপির বিরুদ্ধে এর আগেও দেশে-বিদেশে প্রচুর ফেইক নিউজ করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এসব নিউজ প্রথমে বিদেশে করানো হয়। এরপর বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যম প্রচার করে। যাতে করে বিএনপির একটি বিপর্যয় ঘটে। এরকম নিউজ প্রচুর হয়। তাছাড়া এখন আমাদের মহাসচিব জাতিসংঘের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে আছেন। কাজেই এখন প্রচুর এরকম নিউজ হবে।’
তিনি বলেন: আগেও দেখেছি, এখনও হবে। এর কোনো সত্যতা আছে বলে আমার জানা নেই। আর যা জানা নেই তা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। দলটি চায় নির্বাচনের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন ইত্যাদি দাবীগুলো নিশ্চিত করতে। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীক এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বারবার সংলাপের আহ্বান জানিয়েও ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। তাই বাধ্য হয়ে দলটিকে এখন ঘুরতে হচ্ছে দেশ-বিদেশে এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে।








