কয়েকদিনের ঠা ঠা রোদ্দুরে অতিষ্ঠ ছিলো মানুষ। প্রতিমুহূর্তেই প্রার্থনা ছিলো: ‘আল্লাহ মেঘ দে, পানি দে..’। তৃষ্ণার্ত কাকের মতো মানুষের সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃষ্টি এসেছে। বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই আকাশের মন খারাপ। সেই মনখারাপের ফল হিসেবে এসেছে বর্ষণ। সঙ্গে হাত ধরাধরি করে জলজট আর যানজট।
বৃষ্টির কারণে গরমের প্রকোপ কমলেও প্রবল বর্ষণ চরম দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে। কেউ বাড়ি থেকে বের হয়েই রাস্তায় হাঁটু পানি পেয়েছেন। কেউ কোনো যান না পেয়ে ভিজেই রওনা হয়েছেন গন্তব্যে। আর সৌভাগ্যবান যারা বাস-মিনিবাসে ধাক্কাধাক্কি করে উঠতে পেরেছেন তারা জলজটের সঙ্গে যানজটে পড়ে রাস্তায় বসে থেকেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, অথবা গাড়ি থেকে নেমে কাঁদা-পানির মধ্যেই হেঁটে রওনা হয়েছেন।
বনানী থেকে অফিসের পথে আসা সাজিদ খান জানান, বৃষ্টির কারণে বনানীর পুরো রাস্তাতেই জ্যাম। বাধ্য হয়েই বনানী থেকে মহাখালির লম্বা পথটুকু এই বৃষ্টির মধ্যে হেঁটে পাড়ি দিতে হলো। তারপরও কোনো গাড়ি নেই। মহাখালী থেকে নাবিস্কো এসেছি সিএনজিতে। ১০ টাকার জায়গায় ১০০ টাকা খরচ করে।
কাঁঠালবাগান থেকে বাচ্চাদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন সুমি আক্তার। কিন্তু কোনো যানবাহন নেই। স্কুল বাদ দিতে চাইছিলেন না তিনি। কিন্তু বাচ্চারা এই জল-কাঁদার মধ্যে হাঁটতে মোটেই রাজি নয়। অগত্যা আবারও বাসায় ফেরত।
প্রায় একই চিত্র মিরপুরে। গৃহিনী লায়লাতুল ফেরদৌস জানান, বাচ্চার পরীক্ষা চলছে, স্কুলে যেতেই হবে। বৃষ্টি আর যানজটের মধ্যেই কষ্ট করে বাচ্চা নিয়ে বের হয়েছি। টিচারকে ফোন দিয়েছি যেনো দেরি হলেও পরীক্ষায় বসতে দেন বাচ্চাকে।
ইমদাদ হোসেন বলেন, একে তো প্রচণ্ড বৃষ্টি। রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তার উপরে ভিভিআইপির গাড়ি বহর বেরোনোর কারণে হাতিরঝিল এলাকার পুরো রাস্তা জ্যামে বন্ধ। দুর্ভোগটা নিশ্চয়ই আঁচ করতে পারছেন!
কয়েকদিনের তীব্র গরমের পর সকালে বৃষ্টিটা যেমন স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছিলো, তেমনই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলো ঢাকাবাসীর জন্য দুর্ভোগ। যানজট আর জলজটে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী বৃষ্টিতে মন জুড়ানোর আগেই বিরক্ত হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আষাঢ় মাস শুরু হতে আর মাত্র দুদিন বাকি। সাধারণতঃ এসময় সাগর থেকে আসা নিম্নচাপ বা উত্তাল হাওয়ার কারণে ঝড়-বৃষ্টি হয়।
তবে এ বছর ব্যতিক্রম উল্লেখ করে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক শাহ আলম জানান, সাগর শান্ত থাকলেও দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গত রাত থেকে প্রায় সারাদেশেই কালবৈশাখিসহ বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে ৬ ঘণ্টায় মুসলধারে বৃষ্টি হলেও সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে ৪০ মিলিমিটার।
আর ২৪ ঘন্টায় সিলেটে ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক।
স্কুল-কলেজ-অফিস সময়ে এরকম বৃষ্টিতে রাজধানীর মতো চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই মানুষ বিপাকে পড়েন। সকাল ১১টার পর বৃষ্টির প্রকোপ কমে আসলেও সড়কগুলোতে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানির নীচে অনেকটাই তলিয়ে যায় চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল। একই অবস্থা ছিলো দেশের আরো অনেক জায়গায়।
তবে সরাসরি বড় আঘাতটা টের পাওয়া গেছে ঢাকার কাছে ফতুল্লায়। সেখানে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন বৃষ্টিতে ভেসে গেছে। অবস্থা বুঝে দর্শকদের মতো দু’ দলও মাঠমুখো হয় নি।
এই যে এতো বৃষ্টি, ঝড়-বৃষ্টি নিয়ে প্রাক বর্ষা; তারপরও আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এবারের বর্ষায় বৃষ্টি কম হবে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ
ছবিতে রাজধানীর যানজট ও জলজটের অবস্থা….
মেঘ তো নয়, যেন পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। চারপাশে কিছু দেখার জো নেই।
চারপাশ অন্ধকার হয়ে এসেছে। যেন এখনি তীব্র কান্না শুরু করবে আকাশ।
গাড়ির কাঁচে বৃষ্টির ছাঁট।
রাস্তার তীব্র জ্যামে নাকাল ঢাকাবাসী।
বৃষ্টি আর জ্যামে স্থির যানবাহন।
রাজধানীতে বৃষ্টির সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
জলে ডুবে যাওয়া রাস্তায় ডুবে গেছে গাড়ির বেশিরভাগ অংশ। তবুও গন্তব্যেতো যেতেই হবে।
যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তাতেও জলাবদ্ধতা।
যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রাস্তাতেও জলাবদ্ধতা। পথচলাই দায় সেখানে।







