ইউক্রেনে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জুলি ডেভিস এক বছরের আগেই পদত্যাগ করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এসেছে।
সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়েন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জুলি ডেভিস দায়িত্ব পালনের সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন ইস্যুতে সমর্থনের ঘাটতি নিয়ে হতাশ ছিলেন বলে ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ ধরনের মতবিরোধের কথা অস্বীকার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জানিয়েছে, ডেভিস অবসর নিচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন কিয়েভকে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে চাপ দিয়ে আসছে। এমনকি একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তবে এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে ওয়াশিংটন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধের দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হওয়ায় ইউক্রেন ইস্যুতে অগ্রগতি থেমে গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে রাষ্ট্রদূত ডেভিস পদত্যাগ করছেন এমন দাবি সঠিক নয়।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের জুনে কিয়েভ ত্যাগ করা এবং অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত ডেভিস ট্রাম্পের নীতিই বাস্তবায়ন করে যাবেন।
ডেভিস বর্তমানে ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কূটনীতিক হিসেবে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তিনি সিনেট অনুমোদিত রাষ্ট্রদূত নন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি সাইপ্রাসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করছেন, অর্থাৎ একই সঙ্গে দুটি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন তাকে এই পদে নিয়োগ দেয়, তার আগের রাষ্ট্রদূত ব্রিজেট ব্রিঙ্ক পদত্যাগ করার পর।
ব্রিজেট ব্রিঙ্ক, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং বর্তমানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে কংগ্রেস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তিনি ট্রাম্পের রাশিয়াকে ‘তুষ্ট করার’ নীতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছেন, যা যুদ্ধের শিকার দেশটির জন্য ক্ষতিকর।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একাধিকবার ইউক্রেনকেই রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য দায়ী করেছেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি -এর সঙ্গে তার সম্পর্কও টানাপোড়েনপূর্ণ রয়েছে।








