বাংলাদেশকে ৩১৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে পাকিস্তান। টাইগাররা এই বিশ্বকাপেই তিনবার তিনশ পেরোনো সংগ্রহ গড়েছে, জিতেছে তিনশ পেরোনো লক্ষ্য তাড়া করেও। লর্ডসে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও জয়ের আশা করাই যায়। তবে সেমিতে যেতে বাংলাদেশকে ৭ রানের মধ্যে অলআউট করতে হবে, পাকিস্তানের সেই আশা না করলেও চলে!
আগের আট ম্যাচে ‘সেমিফাইনাল’ নামক শব্দটি ভালো করার মন্ত্র যুগিয়ে এসেছে বাংলাদেশকে। সেটা উবে গেছে গত ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে। সেটাই যেন বাংলাদেশকে দলকে মুষড়ে দিয়েছে! লর্ডসের ফিল্ডিংয়ে শিশুতোষ সব ভুল, পুরো বিশ্বকাপের মতো এদিনও ক্যাচ হাতছাড়া করা, যার সুযোগ নিয়ে পাকিস্তান করে ফেলল ৯ উইকেটে ৩১৫ রান।
রানই বলে দিচ্ছে সেমিতে যাওয়ার স্বপ্নের কার্যত ইতি ঘটেছে পাকিস্তানের। যদিও তারা টস জিতে প্রথমে ব্যাটই করেছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ৩৫০ রান তুলতে পারেনি। সেই রানটা হলে আবার ৩৯ রানের মধ্যে বাংলাদেশকে অলআউট করতে হত। সেই বড় সংগ্রহ না হতে দেয়ার পথে এদিন ১০০তম উইকেট শিকারের ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন মোস্তাফিজ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছেন ৫ উইকেট।
সেমিতে না যাওয়া যাক, মাথা উঁচু করে বিশ্বকাপ শেষ করার মতো একটা জয়ের সুযোগ আছে বাংলাদেশের। সুযোগটা আরও সহজ থাকতে পারত, ফিল্ডাররা যদি হাতে মাখন লাগিয়ে না নামতেন! ক্যাচ মিসের সঙ্গে কিছু গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও দৃষ্টিকটু ছিল, যার কয়েকটি হয়ে গেছে চার!
অষ্টম ওভারে ফখর জামানকে ফিরিয়ে প্রথম সাফল্য আনেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৩১ বলে ১৩ রান করা ফখরকে মিরাজকে ক্যাচ বানান এ পেসার।
শুরুতে উইকেট পাওয়ার আনন্দে দ্রুতই শেষ! বাংলাদেশের ফিল্ডাররা যে কর্তব্যই ভুলে বসলেন। সুযোগ বুঝে ইমাম-উল-হক আর বাবর আজমের জুটি হয়ে উঠল ভয়ঙ্কর। যে জুটি ভাঙতে পারত ১০০ রানে, তার সঙ্গে যোগ হল আরও ৫৭ রান।
২৬তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়েছিলেন ৫৭ রান করা বাবর। মোসাদ্দেক হোসেন তা হাতে জমাতে পারলেন না। পরের ওভারে সেই মোসাদ্দেকের বলেই উইকেটের পেছনে ইমামের ক্যাচ নিতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। সেই ওভারে এক বল বাদে আবারও বাবরের ক্যাচ ছেড়েছেন মুশি।
যারা ক্যাচ পাননি তারাও কম যাননি। এলোপাথারি ফিল্ডিং করেছেন, পায়ের ফাঁক দিয়ে বলকে চার হতে দিয়েছেন। এমনকি বল হাতে অহেতুক থ্রো করে চার বানানোর মতো কাণ্ডও ঘটেছে!
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছেন সেই সাইফউদ্দিনই। ১৫৭ রানে পৌঁছানোর পর ভেঙেছেন ইমাম-বাবর জুটি। চলতি বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে বাবর তখন, সাইফ লেগস্টাম্প বরাবর ইয়র্কার করে এলবির আবেদন করেন। আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েছিলেন বাবর, আউট ঠেকাতে পারেননি। ৯৮ বলে ১১ চারে থামে তার ৯৬ রানের ইনিংস।
বাবর না পারলেও তার সঙ্গী ইমাম ঠিকই তুলে নিয়েছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ও ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি তুলে আউট হয়েছেন পরের বলেই। সেখানে বোলারের কোনো অনুঘটক হওয়া নেই! দোষ ইমামের নিজেরই। মোস্তাফিজের বল লেগে ফ্লিক করতে গিয়ে নিজেই পায়ের আঘাতে স্টাম্প ভেঙে দিয়েছেন। মোস্তাফিজকে উইকেটের সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রেখে হিট উইকেটে আউট হন ইমাম। ঠিক ১০০ বলে ১০০ করে। চারের মার তাতে ৭টি।
ইমাম-বাবর ফিরতেই পাকিস্তানি মিডলঅর্ডারে ধস। মিরাজকে মারতে গিয়ে ৪৩তম ওভারে ডিপস্কয়ারে সাকিবকে ক্যাচ দিয়েছেন ২৭ রান করা হাফিজ। পরের ওভারে হারিস সোহেলকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানান ফিজ। আর হাতে ব্যথা পেয়ে ২ রানে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সরফরাজ আহমেদ।
হারিস সোহেলের উইকেটটি আবার মোস্তাফিজের জন্য বিশেষ গৌরবের। এই উইকেটটি তাকে দিয়েছে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুত শততম উইকেটের ক্লাবে নাম লেখানোর কীর্তি। ৫৪ ম্যাচে ফিজের উইকেটের সেঞ্চুরি। সমান ম্যাচে শতক ছুঁয়েছিলেন কিউই গ্রেট শেন বন্ড। ৪৪ ম্যাচ একশ উইকেট নিয়ে সবার আগে আফগান লেগস্পিনার রশিদ খান। ৫২ ম্যাচে নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। এক ম্যাচ বেশি খেলে তিনে পাকিস্তানি কিংবদন্তি স্পিনার সাকলায়েন মোস্তাক।
মিডলঅর্ডারের ব্যর্থতার পরও পাকিস্তান তিনশো পেরয় ইমাদ ওয়াসিমে ভর করে। শেষদিকে ২৬ বলে ৪৩ রানের মারকাটারি এক ইনিংস খেলেছেন তিনি।
উইকেটের সেঞ্চুরি তোলার ম্যাচে ৭৪ রান খরচায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট নিলেন মোস্তাফিজ। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়ার কীর্তি এখন কেবল তারই। আসরে ৯ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়ে শেষ করলেন বিশ্বকাপ। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে তুললেন নাম। মোস্তাফিজের দিনে আরেক পেসার মোহাম্মদ সাইফদ্দিন ৭৭ রান নিয়েছেন ৩ উইকেট।








