কলসিন্দুরের অনূর্ধ্ব-১৬ দলের মেয়ে ফুটবলার ও তাদের অভিভাবকদেরকে নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিচার দাবি করেছে ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষ।
২০১১ সালে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে বাংলাদেশে মেয়েদের ফুটবলের ইতিহাস শুরু হয়। মেয়েদের ফুটবলে পরপর ৩ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে দাপট শুরু হয় কলসিন্দুর দলের। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কলসিন্দুর কলেজ ২ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে নজর কাড়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের। এরপর শুরু হয় জাতীয় পর্যায়ে পথচলা।
২০১৪ সালে এএফসি অনুর্দ্ধ-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্ট খেলতে নেপালে পাড়ি জমায় বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই দলে কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের ১০ জন ফুটবলার অংশ নেয়। চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। কিন্তু এ সোনার মেয়েরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা নানাভাবে হয়রানি শিকার বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ফুটবলার তাসলিমার বাবাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করারও অভিযোগ উঠেছে কলসিন্দুর স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষক জবেদ আলী তালুকদারের বিরুদ্ধে।
লাঞ্চিত মেয়ে ফুটবলার তাসলিমার বাবা সবুজ মিয়া বলেন, ওরা বলেছে, মেয়েদের এখান থেকে নিয়ে যাবেন, কলসিন্দুরের নাম যেন আর মুখে না আসে।
কলসিন্দুরের অনুর্ধ্ব ১৬ ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী, গণমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষ অভিনন্দন জানিয়ে সম্মানিত করেছেন সেখানে তাদের হয়রানি ও লাঞ্ছনার ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে ময়মনসিংহের সর্বস্তরের মানুষ।
ময়মনসিংহ জাসদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাদিক হোসেন বলেন, এটা খুবই দু:খজন। ওরা আমাদের গর্ব। তাদের পিতাকে এভাবে লাঞ্ছনার ঘটনায় দোষীদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আননতে হবে।
ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া সংগঠক ফরহাদ হোসেন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাফুফের উচিত ছিলো দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া। গ্রামের ঘটনাও প্রশাসনের দেখা উচিত।
ঘটনায় মামলার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি শওকত আলম, কলসিন্দুরের শিক্ষক জাবেদ আলীর বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ নিয়েছি। ঘটনার তদন্তে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আমরা তাসলিমার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করেছি।
ময়মনসিংহের ডিসি মোস্তাকিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, তাসলিমার বাবা ও ফুটবলারদের হয়রানি করার ঘটনায় সাথে সাথেই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে যেন তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মেয়েদের জন্য অনুকূল পরিবেশ আবার ফিরিয়ে আনতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।
লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনায় কলসিন্দুর স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষক জবেদ আলী তালুকদারকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে।







