২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ মেকআপম্যান’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন শফিক। জানা গেছে, ‘জালালের গল্প’ ছবিতে নাকি মেকআপ বলতে ছিল শুধুমাত্র তৌকীর আহমেদকে গোঁফ লাগানো আর তার মুখের ঘাম মুছে দেওয়া। এই ছবিতে সবার ন্যাচারাল লুককে গুরুত্ব দিয়েছেন পরিচালক আবু শাহেদ ইমন। গতকাল শুক্রবার সারা দিন তাকে অনেক চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। পরে রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুধু বললেন, ‘আমার বলার কিছু নাই।’
ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, এই ছবিতে মেকআপের তেমন কোনো ব্যাপার ছিল না। একজন খুব সাধারণ মানের মেকআপম্যানকে ডেকে আনা হয় শুধু তৌকীর আহমেদের গোঁফটা লাগিয়ে দেওয়ার জন্য। ছবির শুটিং হয়েছে ৪৫ দিন, তিনি চারদিন এসেছিলেন। এরপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, ‘গায়েব হয়ে যান।’ পরে বাধ্য হয়ে ছবিতে তৌকীর আহমেদের গোঁফ কেটে ফেলতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় মোশাররফ করিমের শুটিংয়ের সময়। তখন মেকআপের কাজটা শিল্পীদের নিজেদেরকেই সারতে হয়।
ছবিতে নাম দেওয়ার সময় দেখা যায়, এই মেকআপম্যানের নাম কেউ বলতে পারছেন না। কেউ একজন বললো, ওর নাম শফিক। তখন ওইটুকু নামই দেওয়া হয়। এরপর ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এই মেকআপম্যানকে আর দেখেনি।
গত বৃহস্পতিবার ২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এখানে জানা যায়, ‘জালালের গল্প’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ ম্যাকআপম্যানের পুরস্কার পেয়েছেন শফিক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৩১টি উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে আবু শাহেদ ইমনের ছবি ‘জালালের গল্প’। পেয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার। কিন্তু ২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে উল্লেখযোগ্য কোনো বিভাগে দেখা যায়নি এই ছবির নাম।

এদিকে গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই ছবির অন্যতম অভিনশিল্পী মৌসুমী হামিদ। প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘শুনলাম জালালের গল্প নাকি মেকআপে জাতীয় পুরস্কার পাইছে! হাসব নাকি কাঁদব বুঝতেছি না! জালালের গল্পে তৌকীর ভাইয়ের গোঁফ ছাড়া কারও কোনো মেকআপের ব্যাবহারই ছিল না! হাস্যকর ব্যপারটা।’
এই নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়েছে, এর এক ঘণ্টা পর তিনি আরেকটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে লিখেছেন, ‘৬ বছরের ক্যারিয়ারে এত অবাক কখনো হই নাই। আজ জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারে জালালের গল্পর মেকআপের পুরস্কার দেখে যা হইছি। জালালের গল্পে তৌকীর ভাইয়ের গোঁফ ছাড়া মেকআপের কিছু ছিল না! কেউ কোনো মেকআপই ব্যাবহার করে নাই। জুরি কী দেখে এটা দিল?’
এরপরই ব্যাপারটি সবার নজরে আসে। ২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা এখনই কিছু বলতে রাজি হননি। আর প্রতিবেদনে তাদের নাম ব্যবহার না করার জন্যও অনুরোধ করেছেন।










