১০ উইকেটের একটা হার। সঙ্গে চোখের সামনে একদিনের ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। এই অক্টোবরের পর এই স্মৃতি বাংলাদেশের কেউ স্মরণে রাখবেন বলে মনে হয় না। এই যাহ! একটু ভুল হয়ে গেল। একজন তো আছেন, যিনি এই ১৫ অক্টোবরের কথা ভুলে থাকতে পারবেন না। একদিনের ক্রিকেটে এর আগেও তিনি চারটি শতক হাঁকিয়েছেন। সময়-অসময় বিবেচনায় পঞ্চমটি তার অস্তিত্বের প্রমাণ না হলেও একটি সুখনিন্দ্রার উপলক্ষ।
মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের টেস্ট ‘অধিনায়ক’। কতদিন এভাবে তার পরিচয় লেখা যাবে সেই প্রশ্ন টেস্ট সিরিজ থেকে উঠে গেছে। মিডিয়ার সামনে কোচকে নিয়ে মন্তব্য করে বোর্ডের রোষানলে। এর আগে সাকিব আল হাসান সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিশ্রাম নেয়ার পর তার মন্তব্যে অনেকেই ইগোর দ্বন্ধ খুঁজে পেয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি অত বড় খেলোয়াড় নই যে বিশ্রাম লাগবে।’ এই কথার পর বারবার মুশফিক সাকিবের প্রয়োজনীয়তা স্মরণ করেন। কিন্তু এতটুকু বুঝতে অসুবিধা হয়নি মুখ ফসকে সেদিন আসলেই কীসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার ঘনঘটায় মুশফিক আসলেই টালমাটাল। কিন্তু উল্টো বাতাসে ভেসে যাননি। ১১৬ বলে তার অপরাজিত ১১০ রানের ইনিংসটি প্রমাণ করে মাঠের বাইরের আবেগী মুশফিক ২২ গজে হারতে জানেন না। পেশাদার ক্রিকেটে ‘জবাব’ বলে কোনও শব্দ নেই। কিন্তু দিন শেষে কিছু একটা দেখিয়ে দেয়ার ব্যাপার তো থেকেই যায়। অন্যরা যেখানে এসেছেন আর বিদায় নিয়েছেন, এই মুশফিক সেখানে ১৬০ মিনিট ক্রিজে থেকেছেন। মুশফিকের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস ইমরুল কায়েসের, ৩১।
সাকিব (২৯) ফিরে যাওয়ার পর সাউথ আফ্রিকা রান চাপাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একদিকে ইমরান তাহিরের গুগলি অন্যদিকে পেসারদের শর্টবল। মুশফিক সব সামলে নেন। বিপজ্জনক বাউন্সার রিস্ট রোল করে মাটিতে খেলেছেন। চকিত গুগলিগুলো সিঙ্গেলে পরিণত করেছেন। শতকের পৌঁছানোর পর শুধু বুনো উল্লাসটাই করেননি।
মুশফিকের গড়ে দেয়া ভিতকে টিকিয়ে রাখতে পারেননি বোলাররা। সাউথ আফ্রিকার মতো কন্ডিশনে বোলিংয়ে যে বৈচিত্র্য দরকার, তা কারো ভেতর ছিল না। অভিষিক্ত সাউফউদ্দিন শুরু থেকে বল সুইং করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হতে পারেননি।
অন্যদের অবস্থাও একই রকম। উদ্বোধনী জুটিতে সর্বনাশ হওয়ার পর তাসকিন একটি ক্যাচ পেয়েছিলেন। তারই বলে হাশিম আমলা ভুল করেছিলেন। তাসকিন লুফতে পারেননি।
বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়ার পথে ৮৬ ওয়ানডেতে ত্রয়োদশ সেঞ্চুরি করেন কুইন্টন ডিক কক। ধীরে ধীরে তাকে অনুসরণ করেন আরেক ত্রাস হাশিম আমলা। দেড়শ ছাড়িয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সাউথ আফ্রিকার সেরা উদ্বোধনী জুটির রেকর্ডও গড়ে ফেলেন দুজনে। এরপর দেশের ইতিহাসেই সেরা উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়েন।
সাউথ আফ্রিকার উইকেটের মাটি আর বাংলাদেশের মাটি আলাদা। বল বাউন্স করে আবার ব্যাটেও আসে ভালো। সুযোগ সৃষ্টি করতে হলে নিজেদের সহজাত কৌশলকে ছাপিয়ে ভিন্ন কিছু করতে হয়। বাংলাদেশ তা পেরে ওঠেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ইনিংস: ২৭৮/৭ (ইমরুল ৩১, লিটন ২১, সাকিব ২৯, মুশফিক ১১০*, মাহমুদউল্লাহ ২৬, সাব্বির ১৯ ও নাসির ১১, রাবাদা ৪৩/৪, প্রিটোরিয়াস ৪৮/২ ও তাহির ৪৫/১)
সাউথ আফ্রিকা: ২৮২/০ ( ডি কক ১৬৮*, আমলা ১১০*; রুবেল ৩৭/০, মাশরাফী ৫০/০, সাকিব ৪৮/০, তাসকিন ৬৮/০, সাইফউদ্দিন ৪৬/০)







