সমাজকথন

মুক্তিযুদ্ধের গল্প নয়, বাস্তব

বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষের ছবি, মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

মুক্তিযুদ্ধের গল্প নয়, বাস্তব বিষয়ক ছবি, যেখানে নারীরা ও পুরুষেরা উদ্বিগ্ন ও সচেতন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ সিনেমার অন্যতম নির্মাতা মসিহ উদ্দিন শাকেরের ভাগ্নে ও সাবেক ক্রিড়া সাংবাদিক ফরহাদ টিটো ১৬ ডিসেম্বর দুপুরে এক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প নয়, বাস্তব’ শিরোনামে দেওয়া পোস্টে যুদ্ধকালীন পরিচালক শাকেরের অবদান ও যুদ্ধপরবর্তী তার অভিমানের গল্প লিখেছেন।

ফরহাদ টিটো তার পোস্টে লেখেন:

আমার দুই মামা(আপন)। একজন খুব ভালো ছড়াকার ছিলেন বয়স পঁচিশ হওয়ার আগেই। তাকে আদর করতেন, প্রশংসা করতেন কবি প্রধান শামসুর রাহমানও। সেই মামা কম বয়সেই মারা গিয়েছিলেন ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ! ঘটনাটা আটাত্তর সালের দিকের।

মায়ের ঠিক ছোট ভাই, আমার বড় মামা এখনো বেঁচে আছেন ভালোভাবে।
দু’জনেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন দু’ভাবে। বড় মামা তখন বুয়েটে আর্কিটেকচারের ছাত্র। ময়মনসিংহে নেমে পড়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। ছোট মামার হাতের লেখা ছিলো অসম্ভব সুন্দর। বাংলাদেশ বেতারে খবর আর চরমপত্র শুনে শুনে আর গফরগাঁওয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে যুদ্ধের পরিস্থিতি জেনে নিয়ে রাতভর পত্রিকা বানাতেন সাদা কাগজে হাতে লিখে। গ্রামের রাজাকার-আল বদরদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই সব পত্রিকা নিজ হাতে বিলি করতেন বিভিন্ন মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পে। হাতে লেখা ঝকঝকে পত্রিকায় সেই সব খবর পড়ে আনন্দিত আর উজ্জীবিত হতেন মুক্তিযোদ্ধারা।

বড় মামা যুদ্ধের পর আবার বুয়েটে ফিরে গিয়েছিলেন। ক’ বছর পর দারুণ রেজাল্ট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বেরিয়েও এসেছিলেন।

এরপর ছাত্রত্ত্ব শেষের অল্প কিছুদিন পর ফিল্ম ডিরেকটিং শেখা শুরু করে দিয়েছিলেন তিনি। দীক্ষা নিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়ের মতো মহীরুহর কাছেও।

আশির দশকের ঠিক আগে মামা একটা ছবি বানালেন তার এক সিনিয়র বন্ধুকে সঙ্গী পরিচালক করে। বন্ধুর নাম শেখ নিয়ামত আলী। আমার মামার নাম মশিহউদ্দিন শাকের। তাদের বানানো সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী, দেশের বাইরে প্রথমবার আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পাওয়া বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের নাম “সূর্য দীঘল বাড়ি”।

সে-ই ছিলো আমার শাকের মামার জীবনে বানানো একমাত্র ছবি। কয়েক বছর পরের ঘটনা। দেশে “মুক্তিযোদ্ধা চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি” গঠন হলো। আমার মুক্তিযোদ্ধা মামাকে ডাকাই হলো না ! শুনতে পেলাম মুক্তিযুদ্ধের ধারে-কাছেও ছিলেন না বা থাকলেও ছিলেন ‘অন্যপক্ষে’ এমন পরিচালকও ঢুকে গেছেন অনেকজন এই সমিতিতে।
অনেক পরে হয়তো মামাকে ডাকা হয়েছিলো সদস্য হতে.. যদ্দুর জানি মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি অভিমানে, অপমানে।

ফরহাদ টিটোর ফেসবুক পোস্ট:

বিষয়:বাস্তব সমাজকথন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…