বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে নতুন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ভাষণের শুরুতে নবীনদের অভিনন্দন জানিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির জন্য আজ একটি স্মরণীয় দিন। কারণ আজ প্রথমবারের মতো তিন বছর মেয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা কমিশন লাভ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর নবীন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উপযোগী একটি শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করেন। বিভিন্ন সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একটি বিশ্বমানের মিলিটারি অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন তিনি। ’৭৪ সালে প্রাথমিকভাবে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির উদ্বোধনও হয়।
১৯৭৫’র ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বঙ্গবন্ধু নবীন সামরিক অফিসারদের পেশাগতভাবে দক্ষ, নৈতিক গুণাবলীসম্পন্ন এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
‘জাতির পিতার সেই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা নীতি অনুসারে আমরা ‘ফোর্সেস গোল, ২০৩০’ প্রণয়ন করেছি। গত ৯ বছরে আমরা সেনাবাহিনীর অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছি,’ বলেন তিনি।
বর্তমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগের সেনাবাহিনীর চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জামাদির সমন্বয়ে এখনকার সেনাবাহিনী অনেক বেশি উন্নত, দক্ষ ও চৌকষ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণে স্বাধীন রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে। কেননা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল বিশ্ব দরবারে মানসম্মত অ্যাকাডেমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।
বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ শান্তির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে জানবে, এই কামনা জানান প্রধানমন্ত্রী।








