সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অরুনিমা রায় স্নেহা এখনো জানে না যে তার জীবন থেকে সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছে। চিরদিনের মতো মা-বাবার স্নেহ বঞ্চিত হয়েছে। ওসমানী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাবা-মাকেই খুঁজছে সে। স্বজনরা তাকে জানিয়েছে, বাবা-মা অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর আলুরতল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন স্নেহার বাবা স্কলার্স হোম (শাহী ঈদগাহ) এর প্রশাসনিক কর্মকর্তা অরজিৎ রায় (৫০) ও মা দক্ষিণ সুরমার মহালক্ষ্মী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুমিতা দাস (৪৫)। এ দুর্ঘটনায় অরুনিমা রায় স্নেহাও (১২) গুরুতর আহত হয়। স্নেহা স্কলার্সহোমের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।
সিলেটটুডেটুয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, দিনশেষে স্নেহার অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। জ্ঞান ফেরার পর থেকেই সে বাবা-মাকে খুঁজছে। ইনজেকশন দিয়ে তাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে।
স্কলার্সহোমের শিবগঞ্জ ক্যাম্পাসের শিক্ষিকা ফারহানা জোহান বলেন, স্নেহা খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী। সে পঞ্চম শ্রেণীতে জিপিএ-৫ ও বৃত্তি পায়। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ওঠার পর স্কলার্সহোমের শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে চলে যায় স্নেহা।
নিহত সুমিতা দাশ কবি ও সংস্কৃতি কর্মী ধ্রুব গৌতমের বোন।
সকালে খাদিমপাড়া ইউপি’র শাহপরান নিপবন এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিক্সাযোগে নিজেদের কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন অরজিৎ রায় ও সুমিতা দাস। এমসি কলেজ ছাত্রবাস সংলগ্ন মাদানীবাগে প্রাইভেটকার ও অটোরিকশার সংঘর্ষে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নিহতরা অটোরিকশার যাত্রী।
দুর্ঘটনার পর পুলিশ প্রাইভেটকারের মালিককে আটক করেছে। ওই প্রাইভেটকারের মালিকও স্কলার্সহোম স্কুলের শিক্ষার্থীর অভিভাবক। নিজের মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।
তবে শাহপরাণ থানার ওসি শাহজালাল মুন্সী জানিয়েছেন, আটককৃত মিনু মিয়া পুলিশকে বলেছেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি গাড়িতে ছিলেন না। চালক গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
মঙ্গলবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে তাদের মরদেহ খাদিমপাড়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। আজকেই চারিবন্দেরস্থ শ্মশানঘাটে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।









