বৃহস্পতিবার ছিল শিশু আলভিরার মা উম্মে সালমা রহমান রুনির জন্মদিন। সে উপলক্ষে রাতে বাইরে ডিনারের পরিকল্পনা করছিল শিপলু-রুনি দম্পত্তি। কেউ ভাবতেও পারেনি মায়ের জন্মদিনে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়বে দশ বছরের শিশু আলভিরা। মা রুনি কি কখনো পারবে তার জন্মদিন পালন করতে কিংবা শিপলু যখন ওই লিফট দিয়েই তার ফ্ল্যাটে যাবে নিষ্পাপ শিশু আলভিরার স্মৃতিগুলো কি আঁকড়ে ধরবে না?
লিফটের দরজার চাপায় প্রাণ হারানোর আগেও বাবা শিপলুর হাত ধরে ছিল দশ বছরের শিশু আলভিরা রহমান। পরিবারের অভিযোগ, লিফটের সেন্সর ঠিকমতো কাজ না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটির ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানিয়েছেন, লিফট ত্রুটিপূর্ণ জেনেও ভবন পরিচালনা পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর শান্তিনগরের চামেলীবাগের ‘গ্রিন পিস’ নামের একটি বহুতল ভবনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
শিপলু রহমান খান ও উম্মে সালমা রহমান রুনির বড় মেয়ে দশ বছরের আলভিরা রহমান। শিপলু গ্রিন পিস ভবনটির পনের তলায় দশ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছিল।
শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে চামেলীবাগের বহুতল ভবনটিতে গেলে কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী রঞ্জু মিয়া জানান, সকাল ৯টায় এই ভবনে আলভিরার প্রথম জানাযা শেষে উত্তরা নিয়ে যাওয়া হয়।
ওই ভবনের নিচতলাতেই পরিচালনা পর্ষদের অফিস, কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে পরিচালনা পর্ষদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিঠুন চৌধুরী, পর্ষদের সভাপতি মো. আলমগীর মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা ফোন ধরেননি।

তবে ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, ত্রুটিপূর্ণ লিফট ঠিক করতে কাজ শুরু হয়েছে এবং লিফট কোম্পানিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শিশু আলভিরার মৃত্যুতে শিপলুর পরিবার থেকে কোন সাধারণ ডায়েরি বা মামলা করা হয়নি। শিপলুর ঘনিষ্ট এক পারিবারিক বন্ধু চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, আদরের মেয়েকে হারিয়ে শোকে বিহ্বল পরিবারের সবাই। তারা কেউই মামলায় জড়াতে ইচ্ছুক না।
এক নিমিষেই সব শেষ
মতিঝিল বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শিপলু তার স্ত্রী মেয়ে আলভিরাকে নিয়ে ১৫ তলা থেকে নিচে যাচ্ছিলেন, লিফট আসলেও সেটার কল ছিল উপরে। কিন্তু আলভিরা কিছু না বুঝে লিফটে ঢুকে পড়ে, তখনও আলভিরা বাবার হাত ধরা ছিল। আর লিফটের দরজাটি তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় সেন্সর কাজ করছিল না এবং উপরে কল ছিল বলে আলভিরাকে নিয়ে লিফট একটু উপরে উঠে যায়, ১৫ ও ১৬ তলার মাঝে সেন্সর কাজ করে ততক্ষণে আলভিরার মাথায় ব্যাপক চাপ লাগে ও রক্তাক্ত হয়। পরে দ্রুত আলভিরাকে নিয়ে স্কয়ার হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

অকেজো সেন্সরেই প্রাণ হারায় আলভিরা
ত্রুটিপূর্ণ লিফটের অকেজো সেন্সরেই প্রাণ হারায় নিষ্পাপ শিশু আলভিরা। ভবনটির ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, লিফটের সমস্যা একদিনের নয়, অনেক দিনের। তাদের অভিযোগ, সব কিছু জেনেও ভবন পরিচালনা পর্ষদ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রায় হাজারের বেশি মানুষের বসবাস এই ভবনে, সবার ঘরেই শিশু রয়েছে। আমরা এখন আতঙ্কিত। যে কারো পরিবারে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অসীম নিস্তব্ধ দেশে চিররাত্রি পেয়েছে আলভিরা
অসীম নিস্তব্ধ দেশে চিররাত্রি পেয়েছে আলভিরা। এটাই অনন্ত সান্ত্বনা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আলভিরার প্রথম জানাজা শুক্রবার সকালে গ্রিন পিস ভবনের নিচে অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাদজুমা উত্তরার ১৩নং সেক্টরের লেক মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে ১২ নং সেক্টরের কবরস্থানে দাফন করা হয়।








