ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার ১৩
বছরের সাজা নিয়ে একটি রিভিউ পিটিশন ‘উপস্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে
দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
এর ফলে তার শাস্তি বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়
বাতিল করে আপিল বিভাগের আদেশ বহাল থাকায় তাকে আবারো হাইকোর্টে শুনানি এবং
নতুন আদেশের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
হাইকোর্টে নতুন করে শুনানি হবে বলে তার
মন্ত্রিত্বের সঙ্গে আপিল বিভাগের সর্বশেষ বা আগের আদেশের কোনো সম্পর্ক
নেই। মন্ত্রী মায়াও বলেছেন, তিনি আইন মেনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
মামলার ইতিহাস
মন্ত্রী মায়ার এ মামলা সংক্রান্ত বিষয়-আশয়ের শুরু এক এগারো পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক আমলে। মামলার ইতিহাস বলছে, ২০০৭ সালের ১৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক নূরুল আলম সূত্রাপুর থানায় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
একই বছরের ২৫ অক্টোবর মায়া, তার স্ত্রী, দুই ছেলে এবং এক ছেলে বউকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এতে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে দুই কোটি ৯৭ লাখ নয় হাজার টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একইসঙ্গে তারা পাঁচ কোটি আট লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে ছয় কোটি ২৯ লাখ ২৩ হাজার টাকার সম্পদ নিজেদের দখলে রেখেছেন।
শুনানির পর বিশেষ আদালত ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি অন্যদের খালাস দিলেও মায়াকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে ১৩ বছরের সাজা দেন।
আইনি লড়াই
রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। ২০১০ সালের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট তাকে খালাস দেন।
কিন্তু, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদক আপিল করলে গত বছরের ১৪ জুন হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেন প্রধান বিচারপতি
এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ। একইসঙ্গে
হাইকোর্টে নতুন করে আপিল শুনানির নির্দেশও দেওয়া হয়।
এ প্রেক্ষাপটে গত ২৬ জুলাই মায়ার দুর্নীতির মামলার পুনঃশুনানির জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানায় দুদক।
কিন্তু, ওই আবেদন এবং আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করেন মায়া যা আজ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ মায়ার আবেদনটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
কেনো মায়ার মন্ত্রিত্বের সঙ্গে সর্বশেষ আদেশের সম্পর্ক নেই
আপিল বিভাগের সর্বশেষ আদেশের পর এখন হাইকোর্টে দুদকের আবেদন শুনানিতে আর কোনো বাধা নেই। মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে তাই নতুন করে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে।
মায়াও তা মেনে নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন: আদালত রায় দিয়েছেন। আইনের প্রতি আমি পুরোপুরি শ্রদ্ধাশীল। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।
তবে, আইনজীবীরা বলেছেন, এ কার্যক্রমের সঙ্গে তার মন্ত্রিত্ব থাকা না থাকার কোনো সম্পর্ক নেই।
নতুন করে শুনানির পর হাইকোর্ট যে আদেশই দেন এবং যে পক্ষই আপিল বিভাগে আপিল করুক না কেনো তার মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তার মন্ত্রী থাকতে কোনো বাধা থাকবে না।








