ট্রাম্প প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় বর্ণিত নিকটাত্মীয়ের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে হাওয়াইয়ের একটি আদালত। এই রায়ের ফলে এখন থেকে দাদা-দাদি, নানা-নানিসহ অন্যান্য আত্মীয়রা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞা টিকবে না।
বিচারক ডেরিক ওয়াটসন শুক্রবার এই রায় দেন। তিনি ওই নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনাকে ‘অননুমোদিত’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্টের রুলিংকে খুবই সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
নির্দেশনায় তখন বলা হয়েছিল, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বলতে বাবা-মা, স্বামী অথবা স্ত্রী, সন্তান, মেয়ের স্বামী, ছেলের স্ত্রী এবং ভাইবোনকে বোঝানো হয়েছে। দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতি-নাতনি, খালা-ফুপু, মামা-চাচা, ভাগ্নে-ভাগ্নি, ভাতিজা-ভাতিজি অর্থাৎ বৃহৎ অর্থে পরিবারের অন্যান্য স্বজনরা এর আওতায় পড়বেন না।
বিচারক ওয়াটসন বলেন, ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে যে দাদা-দাদী, নানা-নানীরা থাকেন, তা সাধারণ কাণ্ডজ্ঞানেই বোঝা যায়। প্রকৃতপক্ষে তারাই ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সদস্যের উৎকৃষ্ট নমুনা।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে মুসলিম প্রধান ৬টি দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পূর্বের এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ৭টি দেশ থাকলেও নতুনটিতে ইরাককে বাদ দেয়া হয়েছিলো।
এছাড়াও সকল শরণার্থীদের জন্য ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়। ১৬ মার্চ থেকে এই আদেশ কার্যকর করা হবে বলে সেই আদেশে বলা হয়েছিলো।
আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিরাপদ রাখার যুক্তিতে দেয়া ওই নিষেধাজ্ঞাটির আওতায় থাকা দেশগুলো হলো ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া এবং সোমলিয়া।
কয়েক দফা স্থগিতাদেশের পর চলতি বছরের জুনে ওই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আংশিক কার্যকরে সায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ৬টি মুসলিম প্রধান দেশের ভ্রমণকারী এবং শরণার্থীদের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়। সেখানে বলা হয় শুধু মাত্র ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে।
পুরো নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অক্টোবরে পূর্ণাঙ্গ রায় হওয়ার কথা রয়েছে।










