মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় সাইবার হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে গত ক’দিন ধরে। কিন্তু এর সঙ্গে যোগ হলো জঙ্গি হামলার আশঙ্কাও।
যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৮ নভেম্বর আল-কায়েদা হামলা চালাতে পারে বলে একটি তথ্য পাওয়া গেছে। হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্য নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও ভা্র্জিনিয়া বলে মনে করা হচ্ছে, জানিয়েছেন পুলিশের এক মুখপাত্র। তবে তথ্যটিতে ‘সুনির্দিষ্টতার অভাব’ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এই ঝুঁকির মাঝেই নির্বাচনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে সমর্থন রক্ষায় শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন দুই প্রার্থী। হিলারি ও ট্রাম্প দু’জনেই ওহাইয়ো এবং পেনসিলভেনিয়ায় প্রচারণা র্যালি করেছেন।
মতামত জরিপ বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌঁড়ে হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন দিন এগিয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই আগের অবস্থান ফিরে পেতে হিলারি এখন সেসব অঙ্গরাজ্যেও প্রচারণা র্যালি করছেন যেগুলোকে এতদিন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ধরা হতো।
শুধু ডেমোক্রেটিক দলের হিলারি নন, রিপাবলিকান ট্রাম্পও এখন অনিশ্চিত বা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারা ভোটারদের পেছনে দৌঁড়ানোর চেয়ে নিজ নিজ সমর্থকদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়ে তাদের ভোটগুলো নিশ্চিত করার চেষ্টায় আছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৭০ লাখ প্রাথমিক ভোট দেয়া হয়ে গেছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে সমর্থকদের ট্রাম্প বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রে সিরীয় শরণার্থী প্রবেশের পরিমাণ সাড়ে ৫শ’ শতাংশ বাড়াতে চান।
তিনি বলেন, “তার (হিলারির) এই পরিকল্পনার অর্থ হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ আমাদের স্কুল ও সমাজে ছড়িয়ে পড়া।”
রিপাবলিকান এই প্রার্থী বলেছেন, হিলারি ক্লিনটনের স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন হোয়াইট হাউজকে কলঙ্কিত করে গেছেন। মার্কিন জনগণ অভিশংসন শব্দটি আর শুনতে চায় না। হিলারির ইমেইল কেলেঙ্কারির তদন্ত দীর্ঘদিন ধরে চললে কিংবা অভিযোগ প্রমাণিত হলে – প্রেসিডেন্ট পদে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে সাবধান করেছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গে এক সমাবেশে যোগ দিয়ে ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, ট্রাম্প শুধু নিজের লাভটুকুই বোঝেন। তার প্রস্তাবিত অর্থনীতি মধ্যবিত্তের নয়, ধনীদের বেশি কাজে আসবে। হিলারির অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থকে কোনোদিনই ব্যক্তিস্বার্থের উপরে তুলে ধরতে পারবেন না ট্রাম্প।
বদমেজাজ এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে অপমানজনক মন্তব্যের কারণে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার ‘অযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেন হিলারি।








