মানুষের মাংস রপ্তানি নিয়ে গুরুতর বিতর্কে জড়িয়েছে চীন। সম্প্রতি আফ্রিকা মহাদেশের জাম্বিয়াতে প্রচার চালানো হচ্ছে যে, চীন থেকে ম্যারিনেট করে ক্যানে ভরে মানুষের মাংস পাঠানো হচ্ছে।
যদিও এই তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা উল্লেখ করেছেন জাম্বিয়ায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত। ইয়াং ইউমিং পাল্টা দাবি করেন, এটা সম্পূর্ণভাবে চীনের বদনাম করার চেষ্টা। যা আমাদের কাছে একেবারে অগ্রহণযোগ্য।
বিশ্ববাজারে চীনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যেই এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ তার। চীনা রাষ্ট্রদূতের বিবৃতি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমসহ সব গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে।
এই গুজব ছড়ানোর জন্য জাম্বিয়ার একটি ট্যাবলয়েডকে দায়ী করছে চীনের গণমাধ্যম। তারা বলছে, ‘উদ্দেশ্যজনকভাবে কিছু ব্যক্তি জাম্বিয়া এবং চীন মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
ব্লকসাইট ও ফেসবুকের তথ্য নিয়ে স্নাপোজ নামের ওই ট্যাবলয়েড এই গুজব ছড়িয়েছে বলেও দাবি চীনা গণমাধ্যমের।
বর্তমান অবস্থায় সারা আফ্রিকা উপমহাদেশ জুড়ে খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যে চীনে মানুষের মৃতদেহগুলো ম্যারিনেট করে রাখা হচ্ছে। তারপর তা ক্যানের মধ্যে করে আফ্রিকার বিভিন্ন সুপারমার্কেটে বেচে দিচ্ছে চীন।
চীনে মাংসের কারখানায় কাজ করে, তাদের দাবি, চীনে এই মুহূর্তে মৃতদেহ সৎকারের জায়গা খুব কমে গেছে। এছাড়াও, চীন বিশ্বের আরও উন্নত ও গুরুত্বপূর্ণ দেশে অন্য মাংস রপ্তানি করার জন্যে সেগুলো সংগ্রহ করে রাখছে এবং অর্থনৈতিকভাবে কম উন্নত আফ্রিকা উপমহাদেশে মানুষের মাংস ম্যারিনেট করে পাঠিয়ে দিচ্ছে চীন।
তবে সোশাল মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত ছবি ছড়িয়ে যাওয়ার পরই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এই খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য। তাদের দাবি, এ সংক্রান্ত যে ছবি বাজারে ঘুরছে, তা ২০১২ সালে একটি ভিডিও গেমসে ব্যবহৃত, সাম্প্রতিক কোনো বাজারের নয়।
খবর ব্যাপক হারে ছড়িয়ে যাওয়ার পর চীনা গণমাধ্যম জানায়, এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের স্নায়ুতে আঘাত করেছে। এই ঘটনা তদন্তের জন্য জাম্বিয়ার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত ইয়াং।
চীনের পক্ষ থেকে জাম্বিয়ার উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুলেনাগার কাছে ক্ষমা চাওয়া বিষয়টিও জানা হয়।

চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়, ক্রিস্টোফার মুলেনাগা এক বিবৃতিতে জানানিয়েছেন, ‘জাম্বিয়া এবং চীনের মধ্যে যে উষ্ণ সম্পর্ক জাম্বিয়া সে কথা চিন্তা করে এই বিষয়ে আমরা দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা নিশ্চিত যে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে তদন্তের ভার নিতে হবে এবং একটি ব্যাপকভিত্তিক বিবৃতি দিতে হবে।’
চীনের সাথে জাম্বিয়ার গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বেইজিং সেদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন এবং জাম্বিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে সহায়তা করে তাদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখার সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।









