ভারত পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ছেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলেছেন, জম্মু কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় যেকোনও সহিংসতা ও আগ্রাসন থেকে জনগণ এবং আঞ্চলিক অখন্ডতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত পাকিস্তান।
কাশ্মীরে সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর সীমান্তে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ভারত। পাকিস্তানের হাতে আটক এক ভারতীয় সেনাকে মুক্ত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। ওদিকে নিহত দুই সেনার নাম ও ছবিও প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এপর্যন্ত তিনবার যুদ্ধ হয়। যার দুটিরই কারণ ছিল কাশ্মীর। সম্প্রতি কাশ্মির নিয়ে আবারো উত্তপ্ত ভারত-পাকিস্তান। ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সীমান্তে পাকিস্তানের হাতে ১৯ ভারতীয় সেনা হত্যার সরাসরি জবাব বৃহস্পতিবার পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের সার্জিকাল স্ট্রাইক।
সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ রেখায় তুমুল উত্তেজনার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। অভিযোগ করেন, ভারতীয় অগ্রাসন আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছে। ভারতের অগ্রাসন প্রতিহত করতে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
ওদিকে অভিযানে, ভারত পাকিস্তানের ভূখ-ে জঙ্গি হত্যার কথা জানালেও, পাকিস্তান বলছে ভিন্ন কথা। পাকিস্তান অভিযানের সময় ভারতীয় সেনা হত্যা ও নিজেদের ২ সেনা নিহতের পাল্টা দাবি করেছে। অন্যদিকে, ভারত ২ সেনা আহতের কথা জানালেও, প্রাণহানির কথা অস্বীকার করেছে।
অপারেশনের পর সর্তকতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকার কয়েকটি গ্রাম থেকে জনসাধারণকে সরিয়ে নিয়েছে ভারত। উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে সীমান্ত এলাকায়।
নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানে প্রবেশ করায় ভারতীয় এক সেনাকে আটক করেছে পাকিস্তান। এই ঘটনার কথা স্বীকার করেছে ভারত। বন্দি সেই সেনাকে মুক্ত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং।
কন্ট্রোল পার হয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়ে। তবে, সার্জিকাল স্ট্রাইকে তার কোনো ভূমিকা ছিলো না বলে দাবি করেছে ভারত। অন্যদিকে নিহত দুই পাকিস্তানি সেনার নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযানের জন্য – ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মোদি সরকারের প্রশংসা করেছে কংগ্রেসসহ সব ক’টি বিরোধী দল।
সর্বদলীয় সভার আগে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধি বলেছেন, পাকিস্তানকে কড়া জবাব দেয়া হয়েছে। সবাইকে মোদি সরকারকে সহায়তার আহ্বানও জানান সোনিয়া গান্ধি।
একটি সূত্রের বরাতে জঙ্গিবিরোধী সার্জিকাল স্ট্রাইকের পুরোটাই ক্যামেরায় ধারণের খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি। খবরে বলা হয়েছে প্রয়োজনে পুরো ভিডিওই ভারত সরকার প্রকাশ করবে। ভিডিও’র কিছু আকাশ থেকে ড্রোনে ধারণা করার কথাও জানানো হয়েছে।
ভারত ও পাকিস্তানকে সংঘাতের পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জশ আর্নেস্ট জানান, আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।










