ভারতের উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন ডি তিওয়ারি পুত্র রোহিত তিওয়ারির হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারিকে দক্ষিণ দিল্লির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। অপূর্বাই তার স্বামীকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানিয়েছে পুলিশ।
রোহিত তিওয়ারির মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর পুত্রের মৃত্যুর পর রোহিত তিওয়ারির স্ত্রী অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারিকে তিনদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলো।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে রোহিত তিওয়ারির মৃত্যু হৃদরোগে হয়েছে বলে মনে করা হলেও পরে গোয়েন্দাদের সন্দেহ হয়। অপূর্বাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বামী রোহিত তিওয়ারিরকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন।
দিল্লি পুলিশের পদস্থ কর্তা রাজীব রঞ্জন বলেন, ‘অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারি নিজের দোষ স্বীকারে করে জানিয়েছেন, তার এবং রোহিত তিওয়ারির বিবাহিত জীবন মোটেই সুখকর ছিল না। তিনি এই কথাও জানান যে তার সমস্ত আশা ও স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন তার স্বামী। ওই দিন তাদের দুজনের মধ্যে ভয়ানক ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলা তারপর হাতাহাতিতে পৌঁছে যায়। ওই সময়ই অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারি তার স্বামীর মুখে বালিশ চেপে ধরেন। ওই সময় মদ্যপান করছিলেন রোহিত তিওয়ারি। তাই তিনি বাধা দেয়ার অবস্থায় ছিলেন না।’
তার নিজের ঘরেই রাত একটা নাগাদ হত্যা করা হয় রোহিত তিওয়ারিকে। তারপর অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারি তার স্বামী-হত্যার সমস্ত প্রমাণ নষ্ট করে দেন। অপূর্বা শুক্লা তিওয়ারি পেশায় একজন উকিল।
ওই পুলিশকর্তাই জানান, রোহিত তিওয়ারি তার এক আত্মীর সঙ্গে মদ্যপান করেছিলেন। তার ইনসমনিয়া থাকার জন্য তাকে পরদিন সকালেও কেউ ডেকে তোলেননি ঘুম থেকে। বিকেল চারটার দিকে একজন খেয়াল করেন রোহিতের নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। ওই সময় বাড়িতে ছিলেন রোহিতের স্ত্রী অপূর্বাও। সেইসময়ই রোহিতের মা উজ্জ্বলা তিওয়ারি নিজের চিকিৎসার জন্য ছিলেন হাসপাতালে।
কয়েক বছর আগে পর্যন্ত নিয়মিত খবরে থাকতেন রোহিত। একটা সময় তিনি দাবি করেন এন ডি তিওয়ারি তার বাবা। এই দাবির স্বপক্ষে টানা ৬ বছর আইনি লড়াই করেছেন তিনি। ২০১২ সালে নেতার ডিএনএ পরীক্ষার দাবি তোলেন রোহিত। কিন্তু উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে রাজি হননি। শেষমেশ অবশ্য ডিএনএ পরীক্ষায় রাজি হন তিনি। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট রোহিতকে এন ডি তিওয়ারির ছেলে বলে স্বীকৃতি দেয়।









