ভারত-শাসিত কাশ্মীরে জম্মু শহরের কাছে নাগরোটায় সেনা ছাউনিতে মঙ্গলবারের জঙ্গি হামলায় সেনা সদস্য নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। এই সাতজনের দুজন কর্মকর্তা, অন্যরা জওয়ান। একই দিনে সাম্বা সেক্টরে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে গিয়েও আহত হন বিএসএফের এক ডিআইজিসহ সাত জন।
মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে জম্মু থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে নাগরোটায় সেনা ছাউনিতে এ ঘটনা ঘটে।
এনডিটিভি অনলাইনের প্রতিবদেনে বলা হয়, প্রথমে গ্রেনেড ছোড়ে জঙ্গিরা, তারপর এলোপাতাড়ি গুলিও চালাতে থাকে। পাল্টা জবাব দেয় সেনারাও। এতে প্রাথমিকভাবে এক মেজর ও দুই সৈনিক নিহত হওয়ার কথা বলা হয়। পরে নিহতের সংখ্যা সাত বলে জানায় সেনা কর্তৃপক্ষ। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে ২৯ জন সেনা ও ১০ জন সাধারণ ভারতীয় নিহত হল।
সংঘর্ষে অন্তত তিন থেকে চারজন জঙ্গিও প্রাণ হারিয়েছে – তবে সেনা-শিবিরের ভেতর লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের সবাইকে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে কি না, এখনো পর্যন্ত ভারতীয় সেনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিতভাবে তা কিছু জানাতে পারেনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ও সেনা ছাউনির ভেতর থেকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। প্রায় সারাদিন দুপক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধের পরও অপারেশন শেষ হয়েছে।
পাঠানকোট ও উরির পর চলতি বছরে এটি ভারতের কোনও সেনা শিবিরে আবার একটি বড় মাপের হামলা। আর নাগরোটার ঘটনা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
নাগরোটায় আজকের হামলার সঙ্গে জানুয়ারিতে পাঠানকোট বিমানঘাঁটি বা সেপ্টেম্বরে উরির সেনা-শিবিরে হামলার প্রচুর মিল ছিল ।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর চারটি কমান্ড সেন্টারের অন্যতম এই নাগরোটা -আর্মির সিক্সটিন কোরের সদর দফতর এখানেই এবং বিশাল ছাউনিতে অন্তত এক হাজার সেনা কর্মকর্তার বাস।
সেপ্টেম্বরে উরির হামলার ঠিক দশদিন পর ভারত পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে সুনির্দিষ্ট নিশানায় হামলা চালানো বা ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করার কথা জানিয়েছিল, তার ঠিক দুমাসের মাথায় নাগরোটাতে এই হামলার ঘটনা ঘটল।
ঘটনাচক্রে এদিনই অবসরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান রাহিল শরিফ। বিদায়ের দিনে যিনি ভারতের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের ধৈর্যকে ভারত যেন তাদের দুর্বলতা বলে না-ভাবে’।







