১২ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সাজা বা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা এক অর্ডিন্যান্স বা জরুরি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পুরনো আইনে পরিবর্তন এনে নতুন এই আইন পাস হয়।
কন্যাশিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও যৌন অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিতেই এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এনডিটিভি জানায়, পাঁচদিনের বৈদেশিক সফর শেষে দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউনিয়ন মন্ত্রিসভার সঙ্গে বৈঠকে বসে এই পরিবর্তন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এর আগে ১৮ বছরের কম বয়সী কাউকে ধর্ষণে সর্বনিম্ন সাত বছর ও সর্বোচ্চ আমৃত্যু কারাদণ্ড ছিল শাস্তির বিধান।
জম্মু-কাশ্মিরে আট বছর বয়সী মেয়ের দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক ইউনিয়ন মন্ত্রী মানেকা গান্ধি আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। শনিবারের বৈঠকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এ ধরনের প্রস্তাব আগেও তোলা হয়েছিল মন্ত্রিসভায়। তবে প্রতিবারই তা নাকচ করে দেয়া হয়েছে কোনো না কোনোভাবে। সবসময়ই বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ধর্ষণ থামানো সম্ভব নয়।
সর্বশেষ এই প্রস্তাব ঠেকিয়েছিলেন মোদি নিজেই। জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের আইন কর্মকর্তা মোদির পক্ষ থেকে বলেছিলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড সবকিছুর জবাব নয়।’
আর এ কারণে একের পর এক ধর্ষণ ও শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শুরু হওয়া বিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ধর্ষকদের প্রাথমিকভাবে রক্ষা করার মনোভাব প্রকাশকারী বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
এছাড়াও মন্ত্রিসভা বৈঠকে আরও একটি অর্ডিন্যান্স পাস হয়েছে। সেটি অনুসারে অর্থ আত্মসাৎ করে দেশের বাইরে পলাতক যে কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে সরকার।










