দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভারতের সঙ্গে টেস্ট খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেদেশ সফরকে নতুন শুরুর প্রথম ধাপ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।
তার আশা, একটি টেস্টকে উপলক্ষ করে এ সফর হলেও ভবিষ্যতে তিন সংস্করণেই পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাবে ভারত।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে বিসিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হিসেবে এটিই প্রথম ভারত সফর। শুরু তো হলো…। অতীতে অনেক চেষ্টা করেও ভারত সফরে যেতে পারিনি। একটা টেস্ট দিয়ে শুরু হচ্ছে। সামনে সব ফরম্যাটের সিরিজ খেলবো, সে আশাই করছি।’
বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ-ভারতের একমাত্র টেস্টটি। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এই প্রথম ভারতে গিয়ে সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ।
দেরিতে হলেও এ আমন্ত্রণকে দু’দেশের বোর্ডের মধ্যে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মোড় হিসেবে ধরছেন জালাল ইউনুস। গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি দেওয়াকেও একই সূত্রে ফেললেন তিনি, ‘ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে বিসিবির সম্পর্ক সবসময়ই ভালো। তারাই কিন্তু বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট ম্যাচের প্রতিপক্ষ হতে রাজী হয়েছিল। তখন থেকেই ভারতকে পাশে পেয়েছি আমরা। আইপিএল শুরু হওয়ার পর ভারতীয় খেলোয়াড়দের দেশের বাইরে কোনো ফরম্যাটেই খেলতে দিত না বিসিসিআই। কিন্তু গতবছর থেকে ঢাকা লিগের বিভিন্ন ক্লাবে ভারতের ক্রিকেটাররা খেলছে। এটা ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্কটা নতুনভাবে শুরুরই বার্তা দেয়।’
ধারণা করা হয় কৌশলগত কারণেই বাংলাদেশকে এতদিন ডাকেনি ভারতীয় বোর্ড। এখন পারফরম্যান্সে ধারাবাহিক উন্নতির ছাপ দেখেই বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দিতে আগ্রহী প্রতিবেশি দেশটি। এক ম্যাচের টেস্ট দিয়ে যার যাত্রা শুরু হলো।
তবে জালাল ইউনুস মনে করেন ক্রিকেটের বিশ্বায়নের দিকে তাকিয়ে সিরিজ খেলার ব্যাপারে কেবল পারফরম্যান্সই মানদণ্ড হওয়া ঠিক নয়, ‘টেস্ট ক্রিকেটে দলের সংখ্যা মাত্র দশটি। দেশগুলো একে অপরকে যদি সাহায্য করে, উৎসাহ দেয়, তাহলে ক্রিকেটের জন্যেই ভালো হবে। শুধু বানিজ্যিক চিন্তা করলে তো হবে না। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাইলে অন্যান্য খেলার মত করে ক্রিকেটেও অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়াতে হবে। নইলে ক্রিকেট সঠিক জায়গা থেকে বার বার পিছলে যাবে।’
টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৬ বছরে ভারতের সঙ্গে সাদা পোশাকে আটবার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। গড়ে দুই বছরে মাত্র একটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছে টাইগাররা। তবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলের সঙ্গে খেলার হার বাড়াতে হলে ভালো পারফরম্যান্সেরও বিকল্প নেই।
হায়দারাবাদে কোহলি-অশ্বিনদের সামনে মুশফিক-সাকিবরা চোখে চোখ রেখে লড়াই জমিয়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে হয়তো পূর্ণাঙ্গ সিরিজের জন্যই ডাকবে ভারত। ক্রিকেটে বাণিজ্যিকীকরণ চর্চা যেভাবে চলছে, তাতে পারফরম্যান্সের বাইরে গিয়ে ভাবার সুযোগ কমই।








