ভারতের মহারাষ্ট্রে ফসলের ক্ষেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় গত এক মাসে কমপক্ষে ২০ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে ও গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। কিছু কিছু কীটনাশকের মধ্যে প্রাণঘাতি মিশ্রণের উপাদান পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
এনডিটিভি জানায়, কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় প্রথম মুত্যুর ঘটনা ঘটে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে। যা এখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সে সময় ৬ শতাধিক কৃষক কীটনাশকের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। বিষক্রিয়ায় কৃষকদের চোখে ঝাপসা দেখা, বমি বমি ভাব, ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠা, মাথাব্যাথার উপসর্গ দেখা দেয়। এখনো শতাধিক চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আবার অনেকে তাদের চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের একজন ২৯ বছর বয়সী
কৃষক ইন্দার রাথোড মহারাষ্ট্রের ভিদার্ভা এলাকায় তুলার ক্ষেতে কাজ করতো। গত সপ্তাহে ক্ষেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়। এরপর থেকেই সে আর কিছু দেখতে পারছেন না বলে জানায়।
এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজের জন্য দিনে ২শ থেকে আড়াইশ টাকা করে পেতো ইন্দার। ইন্দর বলেন, ‘ক্ষেতে কীটনাশক ছড়ানোর পরপরই কিছু দেখতে পাচ্ছি না। খুব দ্রুত এ ঘটনা ঘটে। আমার তিনটি বাচ্চা আছে। সংসারে আমিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আমি যদি আর দৃষ্টি ফিরে না পাই তাহলে তাদের খাওয়াবো কিভাবে?’
আরেক ভুক্তভোগী ৩৯ বছর বয়সী কৃষক ব্রহ্মানন্দ অধিক। কীটনাশক দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে সাময়িকভাবে দৃষ্টি হারিয়েছে।তিনি বলেন, ‘সেদিন ক্ষেতে কীটনাশক দিচ্ছিলাম। হাঠাতই আমার হাত জ্বালাপোড়া করতে থাকে এবং আমি স্পষ্টভাবে কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। এরপর নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করি।’
বিশেজ্ঞরা বছেন, কীটনাশক দেয়ার নতুন মেশিন এবং কীটনাশক বোর্ডের নিয়ম কানুন এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। তারা জানান, নতুন করে বাজারজাত করা কীটনাশক যথাযথ প্রতিষেধক ব্যবস্থা মেনে তৈরি করা হয়নি। বেশির কীটনাশকের গায়ে তা লেখা থাকলেও কার্যত তা ক্ষতি করছে।
এ বিষয়ে আদালত শুক্রবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ ও কীটনাশক প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহেণের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাদনাভিস ভুক্তভোগী কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া সহ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।