নরওয়েতে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড ঘটানো খুনি অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিক তার নাম পরিবর্তন করে ফিওটল্ফ হ্যানসেন রেখেছেন। যে কৃষি ফার্মে তিনি বোমা তৈরির সরঞ্জাম রেখেছিলেন তার মালিকানার নামের সাথে এই নামের মিল রয়েছে।
নাম পরিবর্তনের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী ওয়েস্টেইন স্টোরভিক।
জেলখানায় অমানবিক অবস্থার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন ব্রেইভিক। কিন্তু দেশটির সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে। ৫০ লক্ষ লোকের নরওয়েতে হ্যানসেন নামের প্রায় ৫২ হাজার মানুষ রয়েছে।
নাম পরিবর্তন সম্পর্কে ব্রেইভিক তার আইনজীবীকে বেশকিছু বিষয় বলেছেন কিন্তু ওয়েস্টেন বিষয়গুলো গোপন রাখতে চেয়েছেন। নরওয়ের নাগরিকরা অফিসিয়াল রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে তাদের নাম পরিবর্তন করতে পারেন, যদি সেই নাম পরিবর্তন অন্য কারও জন্য ক্ষতিকর না হয়।
২০১১ সালের জুলাই মাসে অ্যান্ডার্স বেরিং ব্রেইভিক অসলোর সরকারি স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং উটোয়া দ্বীপে নরওয়েজিয়ান লেবার পার্টির গ্রীষ্মকালীন তরুণ ক্যাম্পে বন্দুক হামলা চালান যাতে মারা যান প্রায় ৭৭ জন এবং আহত হয় ২৪০ জনের বেশি। তিনি বর্তমানে ২১ বছরের কারাবাস ভোগ করছেন।

তার কৃতকর্মের জন্য এখনও তার ভিতরে কোন অনুশোচনা জন্ম নেয়নি। তিনি আদালতকেও সম্মান করেন না। উপরন্তু আদালতে উপস্থিত হয়ে ফ্যাসিস্ট সালাম দিয়ে অবমাননা করে।
ব্রেইভিক নরওয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকারের ইউরোপীয় কনভেনশনের দুটি ধারা লঙ্ঘণ করার অভিযোগ এনেছিলেন। তাকে অসলো থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্কিয়েন কারাগারে রাখা হয়েছে। নির্জন কারাবাসের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র তাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন তিনি।








