ইসতেগফার অর্থ ক্ষমা প্রার্থনা করা। নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার নাম ইসতেগফার। মহান আল্লাহ বান্দার জন্য সর্বাবস্থায় গাফুর ও গাফফার। বান্দা যখনই কৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইবে, মহান রব তখনই তার আহবানে সাড়া দেন। মানুষের কাছে কোনো কিছু দাবি করার সময় আছে। কেউ যখন ঘুম-নিদ্রায় থাকে, তখন সে অন্যের আবেদন শুনে না। অফিসের কর্মকর্তা অফিস টাইম ব্যতিত কোনো ব্যক্তির আবেদন গ্রহন করতে চান না। সৃষ্টির ব্যবস্থাপনার ধারা প্রায় এমনটাই। মানুষের কথা শোনার জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে। আবেদনকারীর আবেদন চাইলেও সর্বাবস্থায় গ্রহণ করতে পারে না।
কিন্তু স্রষ্টার হিসাব ভিন্ন। আমাদের মহান রব তো এমন যে তার কোন ঘুম-নিদ্রা নেই। তাকে তন্দ্রাও আচ্ছন্ন করতে পারে না। এক বান্দার প্রতি মনোনিবেশ করলে অপরাপর সৃষ্টির প্রতি গাফেল থাকেন না। একবারের জায়গায় দ্বিতীয়বার কেউ চাইলে তিনি রাগও করেন না। বরং যত বেশী চাওয়া হয় ততই তিনি খুশি হন। তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার কোন নিষিদ্ধ সময় নাই।
তিনি সদা জাগ্রত। সকলের জন্য তার ক্ষমার দরজা খোলা রেখে তিনি বান্দাকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য আহ্বান করে থাকেন। সৃষ্টি যখন ঘুমান, তখনও ক্ষমার দরজা খুলে তিনি বান্দাকে ডাকতে থাকেন।
পবিত কোরআনে অসংখ্য জায়গায় সে কারণে ইসতেগফার কারার জন্য মহান প্রভু বান্দাকে তাগিদ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের প্রভুর কাছে ইসতেগফার কর অতঃপর তার কাছে ফিরে যাও নিশ্চয় আমার প্রভু দয়াময় প্রেমময়।’ (সূরা হুদ-৯০) অন্যত্রে বলা হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ইসতেগফার কর। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, দয়াবান।’ (সূরা মোজাম্মেল-২০)
পবিত্র হাদিস শরীফে পাওয়া যায়, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম দৈনিক ১০০ বার ইসতেগফার করতেন। অথচ তার কোনো গুনাহ নেই। একজন নিষ্পাপ সত্তা যখন দৈনিক শতবার ইসতেগফার করতেন, তখন সাধারণ মুসলমানের দায়িত্ব ও কর্তব্য খুব সহজে অনুধাবন করা যায়। হাদীস শরীফে পাওয়া যায়, ‘মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান, জমিন সমান বিস্তৃত গুনাও যদি তোমার হয়, অতঃপর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।
পবিত্র মাহে রমজান গুনাহগার বান্দার গুনাহ মাফ চাওয়ার উপযুক্ত সময়। কারণ এখানে আল্লাহ তার বিশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। তাই আসুন, আমাদের গুনাহের কথা স্মরন করে অনুতপ্ত হয়ে, মহান আল্লাহর দরবারে ইসতেগফার করি।
লেখক: মুফতি আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল হক উপাধ্যক্ষ, কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া কামিল মাদরাসা










